ঈমান কাকে বলে,ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ঈমান কাকে বলে? | ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ঈমান কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো ঈমান কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

ঈমান কাকে বলে,ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ঈমান কাকে বলে,ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
ঈমান কাকে বলে

ঈমান কাকে বলে?

শরীয়তের পরিভাষায়, হযরত মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সহ তার প্রতি আস্থাশীল হয়ে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা কে ঈমান বলে।

মুমিন হওয়ার প্রথম শর্ত হলো কালিমা পাঠ করা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।’

ঈমান একটি আরবী শব্দ। এর সাধারণ অর্থ হলো— বিশ্বাস করা। এছাড়াও আনুগত্য করা, অবনত হওয়া, নির্ভর করা ইত্যাদি অর্থেও ঈমান শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ঈমান মূলত ছয়টি বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর সেগুলো হলো-

  1. আল্লাহ
  2. ফেরেশতা
  3. আসমানী কিতাব
  4. নবী-রাসূল
  5. শেষ দিবস ও পুনরুত্থান
  6. ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপণ করা

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় ঈমানের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমামদেরর বিভিন্নধর্মী সংজ্ঞা পরিলক্ষিত হয়। সেগুলো হলো- ইমাম আবু হানিফা (রহ.. বলেছেন, ‘আন্তরিক বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতিই হলো ঈমান’।

ইমাম গাজ্জালি (রহ.. বলেছেন, ‘রাসূল (সা.. এর আনীত সব বিধি-বিধানসহ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাই হচ্ছে ঈমান’।

ইমাম শাফেয়ী, মালেক ও আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.. এর মতে, অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি এবং আরকানসমূহ (ইসলামের বিধি-বিধান. কাজে পরিণত করার নাম ঈমান।

কালেমার প্রথম অংশ হলো– ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, অদ্বিতীয়। তিনি সব পারেন, সব করেন। সব ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব একমাত্র তারই অধীন। তিনি সব ধরণের দুর্বলতা, ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। সামান্য থেকে সামান্যতম বিষয়েও সবাই তার মুখাপেক্ষী, কিন্তু তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন- এমন বিশ্বাস লালন করা।

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, ইসলামের মূল বিষয়গুলোকে অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং তদনুযায়ী আমল করাকে ইমান বলে।

ঈমান অর্থ বিশ্বাস। ইসলামি শরীয়তের সকল বিষয়গুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা ও মনে চলা বা কাজে প্রকাশ করার নাম ঈমান।

এক আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা, তার প্রেরিত কিতাবসমূহ, নবী রাসুলগণ, ফেরেশতাগণ, মৃত্যু, কিয়ামত ও আখিরাত এবং তকদীর এর উপর বিশ্বাস করার নাম ঈমান।

ইসলামি শরীয়তের সব বিষয়গুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা ও মেনে চলা বা কাজে প্রকাশ করার নাম ঈমান। যার ঈমান আছে তাকে বলা হয় ‘মুমিন।’

কালেমার দ্বিতীয় অংশ হলো– ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। হজরত মুহাম্মদ (সা.. আল্লাহর রাসূল। তিনি সর্বশেষ নবী। মানুষের হেদায়েতের জন্য মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সর্বশেষ পয়গম্বর। তার পরে আর কোনো নবী অথবা রাসূল আসবেন না- এ কথাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা এবং মেনে নেয়া।

সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান। ঈমানের বিপরীত কুফর। ঈমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ঈমান আলো, কুফর অন্ধকার। এই ঈমান রক্ষার জন্য সর্বাগ্রে জানতে হবে ঈমান কাকে বলে। এবং আরো জানতে হবে কোন বিষয়গুলো ঈমানবিধ্বংসী। কী কী কাজ করলে ঈমান চলে যায়। আর কোন কাজের মাধ্যমে ঈমান থাকে এবং আরো মজবুত হয়।

প্রিয় নবী রাসূল (সা.. সতর্ক করে গেছেন এমন একটি যুগ সম্পর্কে, যে যুগে বিভক্তি দেখা দেবে। ফেতনা-ফ্যাসাদ প্রবল হবে। দাঙ্গাহাঙ্গামা বেড়ে যাবে। অশ্লীলতা, নির্লজ্জ বেহায়াপনা ব্যাপক আকার ধারণ করবে। আর তখন ঈমানের ওপর টিকে থাকা একজন মুমিনের জন্য বেশ কঠিন।

প্রত্যেক মুমিনের সর্তক থাকা জরুরি- সমাজের বিভিন্ন ফেতনা-ফ্যাসাদ ও বিভ্রান্তি কবলে পড়ে ঈমান হারানো কিংবা ঈমানের দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের পরিপূর্ণ ঈমান অর্জন করার তাওফিক দান করুক। আমিন।

ঈমানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ইসলামের ঈমানের গুরুত্ব অপরিসীম। এর প্রধান কয়েকটি নিম্নে দেওয়া হল-

  • আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন ব্যতীত কেউ সফলতা লাভ করতে পারবে না। দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হল মনুষ্যত্বের চালিকাশক্তি।
  • এটি ব্যতীত মানব জীবন মূল্যহীন। কেননা ঈমান ইসলামের মূল ভিত্তি।
  • মহান আল্লাহ তা’য়ালা সমগ্র মানবমন্ডলীকে সৃষ্টি করার পর ,তার প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন এ কারণে ঈমানের গুরুত্ব অপরিসীম।
  • ইহকালীন কল্যাণ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
  • এটি ব্যতীত কোন আমলই আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই পরকালীন মুক্তির জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম।
  • ইমান মানবতার সোপান। কেননা এটি ব্যতীত কেউ নিজের অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারে না।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে ঈমান কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *