দর্শন কাকে বলে,দর্শনের শাখা কয়টি,শাব্দিক অর্থে দর্শন

দর্শন কাকে বলে? | দর্শনের শাখা কয়টি | শাব্দিক অর্থে দর্শন

দর্শন কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো দর্শন কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

দর্শন কাকে বলে,দর্শনের শাখা কয়টি,শাব্দিক অর্থে দর্শন
দর্শন কাকে বলে

দর্শন কাকে বলে?

জগৎ, জীবন, মানুষের সমাজ, তার চেতনা এবং জ্ঞানের প্রক্রিয়া প্রভৃতি মৌল বিধানের আলোচনাকেও দর্শন বলা হয়। জীবন ও জগত সম্পর্কিত মৌলিক সমস্যা বলির যক্তিক অনুসন্ধান করাই হচ্ছে দর্শন।

নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে দর্শন জ্ঞানের এমন একটি ধারা যা, মানুষের কিভাবে জীবন নির্বাহ করা উচিত (নীতিবিদ্যা); কোন ধরনের বস্তুর অস্তিত্ব রয়েছে এবং তাদের প্রকৃতি কি (অধিবিদ্যা); প্রকৃত জ্ঞান বলতে কোন জিনিসটিকে বোঝায় এবং কারণ প্রদর্শনের সঠিক নীতিগুলো কি কি (যুক্তিবিদ্যা); এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে।

দর্শন হল সাধারণ এবং মৌলিক প্রশ্নগুলির অধ্যয়ন, যেমন অস্তিত্ব, যুক্তি, জ্ঞান, বাস্তবতা, মূল্যবোধ, মন এবং ভাষা সম্পর্কে। দর্শন হল জীবনের অর্থ এবং বিশ্বাস সম্পর্কিত ধারণাগুলির অধ্যয়ন।

আক্ষরিক অর্থে, “দর্শন” শব্দটির অর্থ হল “জ্ঞানের ভালবাসা“।

Also Read: বাক্য কাকে বলে

শাব্দিক অর্থে দর্শন

ইংরেজি ‘Philosophy’ শব্দের প্রতিশব্দ ‘দর্শন’। দর্শন শব্দটি মূলতঃ সংস্কৃতি শব্দ, যার পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে বস্তুর প্রকৃত সত্তা বা তত্ত্বদর্শন। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক পিথাগােরাস “Philosophy” কথাটিকে ‘জ্ঞানানুরাগ’ অর্থে ব্যবহার করেন। “Philosophy” শব্দটি গ্রিক শব্দ Philos এবং “Sophia” থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ‘Philos’ শব্দের বাংলা অর্থ অনুরাগ এবং ‘Sophia’ শব্দের অর্থ জ্ঞান ।

অর্থাৎ “Philosophy” শব্দের ধাতুগত অর্থ হচ্ছে জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ। খ্রিষ্টপূর্ব যুগে Socratics ও Plato থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত Philosophy-এর প্রধান কাজ জ্ঞান আহরণ।

Also Read: ঐকিক নিয়ম কাকে বলে

দর্শনের শাখা কয়টি

দর্শনশাস্ত্রের 7টি শাখা রয়েছে, যথা:

  1. অধিবিদ্যা
  2. অ্যাক্সিওলজি
  3. যুক্তিবিদ্যা
  4. নন্দনতত্ত্ব
  5. জ্ঞানতত্ত্ব
  6. নীতিশাস্ত্র
  7. রাজনৈতিক দর্শন
  • মূল্যবোধ সংক্রান্ত দর্শনবিদ্যা (Axiology): মূল্য এবং মূল্যায়ন প্রকৃতি অধ্যয়ন।
  • জ্ঞানতত্ত্ব: মানুষের জ্ঞানের প্রকৃতি, উৎপত্তি এবং সীমার অধ্যয়ন।
  • অধিবিদ্যা: বাস্তবতার মৌলিক প্রকৃতির অধ্যয়ন।
  • রাজনৈতিক দর্শন: সরকার অধ্যয়ন, পাবলিক এজেন্ট এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি, সুযোগ এবং বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্নগুলি সম্বোধন করা।
  • নৈতিকতা দর্শন: মানুষের আচরণে সঠিক এবং ভুল কী তা অধ্যয়ন করুন।
  • নান্দনিকতা: সৌন্দর্য এবং স্বাদ অধ্যয়ন।
  • যুক্তি দর্শন: প্রকৃতি এবং যুক্তিবিদ্যার ধরন অধ্যয়ন।

SOME FAQ:

কেন আমরা দর্শন অধ্যয়ন করব?

দর্শনের অধ্যয়ন একজন ব্যক্তির সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ায়। এটি আমাদের ধারণা, সংজ্ঞা, যুক্তি এবং সমস্যাগুলিকে সংগঠিত ও বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে।মূল্যবোধের প্রশ্নগুলির সাথে মোকাবিলা করতে এবং প্রচুর পরিমাণে তথ্য থেকে যা প্রয়োজনীয় তা বের করতে অবদান রাখে।

দার্শনিক বলতে কি বোঝায়?

একজন দার্শনিক হলেন এমন একজন যিনি দর্শন চর্চা করেন। একজন ব্যক্তি দর্শনে নিযুক্ত বা শিখেছেন, বিশেষত একটি একাডেমিক শৃঙ্খলা হিসাবে। দার্শনিক হলেন একজন বুদ্ধিজীবী যিনি দর্শনের এক বা একাধিক শাখায় অবদান রাখেন, যেমন বিজ্ঞানের দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, অধিবিদ্যা, সামাজিক তত্ত্ব, নান্দনিকতা, নীতিশাস্ত্র, জ্ঞানতত্ত্ব, ধর্মের দর্শন এবং রাজনৈতিক দর্শন।

দার্শনিকরা কি করেন?

একজন ব্যক্তি যিনি নীতিশাস্ত্র, অধিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা এবং অন্যান্য সম্পর্কিত ক্ষেত্রে গভীর প্রশ্নে মতামত বা তত্ত্ব প্রদান করেন। একজন ব্যক্তি যিনি দর্শনে গভীরভাবে পারদর্শী। একজন ব্যক্তি যিনি কিছু আন্দোলন, ধর্ম ইত্যাদির কেন্দ্রীয় ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন।

বিখ্যাত দার্শনিকের নাম কি?

সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে দর্শন কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *