নেটওয়ার্ক কাকে বলে,নেটওয়ার্ক কি

নেটওয়ার্ক কাকে বলে? | নেটওয়ার্ক কি

নেটওয়ার্ক কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো নেটওয়ার্ক কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

নেটওয়ার্ক কাকে বলে,নেটওয়ার্ক কি

নেটওয়ার্ক কাকে বলে,নেটওয়ার্ক কি
নেটওয়ার্ক কাকে বলে

নেটওয়ার্ক কাকে বলে বা কি?

computers, mainframes,servers, network devices, peripherals, এবং অন্যান্য devices কে যখন এমন ভাবে যুক্ত করা হয়, যাতে তারা একে ওপরের সাথে communicate এবং data বা information আদান প্রদান করতে পারে তাকে নেটওয়ার্ক বলে ।

সহজ কথায়, “ নেটওয়ার্ক হল বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য বিনিময় এবং নেটওয়ার্ক এর অন্যান্য সুবিধা ভাগ করে নেওয়ার জন্য দুই বা ততোধিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রের আন্তসংযোগ ।”

ইন্টারনেট হলো নেটওয়ার্ক এর সবথেকে শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। বর্তমানে ইন্টারনেট লক্ষ লক্ষ মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে।

নেটওয়ার্কের ইতিহাস

নেটওয়ার্ক এর সূচনা হয় 1960 থেকে 1970 সালে এর মধ্যে। সেই নেটওয়ার্কের নাম ছিল ARPANET, যার পুরো নাম “Advanced Research Projects Agency Network”।

প্রাথমিকভাবে নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য ছিল Terminals এবং remote job entry station গুলিকে mainframe সংযুক্ত করা, কিন্তু এই নেটওয়ার্ক টিতে সেই সময় Resource Sharing এর সুবিধা চালু করার উপায় ছিল না।

ARPANET সে সময় বেশ নির্ভরযোগ্য ছিল কারণ এটি packet switching প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।

ARPANET তখন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এটি এনক্রিপ্ট করা মেসেজ পাঠাতে পারত।

এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে একসঙ্গে সংযুক্ত করতে ব্যবহার করা শুরু হয়।

এরপর ধীরে ধীরে এটিকে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং এর ফলে এর অনেত উন্নয়ন ঘটে এবং এটি আজকের বিশ্বের বৃহত্তম নেটওয়ার্ক হয়ে উঠেছে। যা আমরা ইন্টারনেট নামে জানি।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি বা কাকে বলে?

দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে যখন একে অপরের সাথে যুক্ত করা হয় যাতে তারা নিজেদের মধ্যে ইনফরমেশন আদান-প্রদান করতে পারে তখন তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে ।

যখন একাধিক কম্পিউটার পরস্পরে কোনো wired বা wireless মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে তখন সেটাকেই বলা হয় নেটওয়ার্ক।

ন্যূনতম দুটি কম্পিউটার পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকলে এই তাকে আমরা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলতে পারি।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে শুধুমাত্র কম্পিউটারে সংযুক্ত থাকবে।

এটিকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলা হলেও, এই নেটওয়ার্কের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র সংযুক্ত থাকতে পারে। এবং এই বৈদ্যুতিক যন্ত্র গুলিকে নেটওয়ার্কের যেকোনো কম্পিউটার বা অন্যান্য যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

কোন নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য কম্পিউটার বা বিভিন্ন যন্ত্র কে ওয়্যার বা ওয়্যারলেস উভয় মাধ্যমে সংযুক্ত করা যেতে পারে ।

নেটওয়ার্ক মাধ্যমে, আমরা কাছাকাছি বা দূরে ছড়িয়ে থাকা কম্পিউটারগুলিকে সংযুক্ত করতে পারি।

প্রতিটি নেটওয়ার্কের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে।

যেমন যদি একটি কোম্পানির, এক বা একাধিক বিল্ডিং থাকে, সে ক্ষেত্রে ওই কম্পানির প্রতিটি কক্ষ এবং প্রতিটি বিল্ডিং এর মধ্যে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা যেতে পারে।

এছাড়াও যদি ওই কোম্পানির অন্য কোন শহরে বা অন্য কোনো দেশে যদি কোন শাখা থাকে তাহলে সেগুলিকে ও এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত করা সম্ভব।

Also Read: আকাইদ কাকে বলে

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ধরন

প্রধানত 3 ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক রয়েছে: LAN, WAN এবং MAN। কিন্তু এ ছাড়াও আরও কিছু ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে যেমন PAN,HAN,ইত্যাদি:

  1. Personal Area Network বা PAN
  2. Home Area Network বা HAN
  3. Local Area Network বা LAN
  4. Metropolitan Area Network বা MAN
  5. Wide Area Network বা WAN

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) কাকে বলে বা কি?

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক অর্থাৎ LAN, এই ধরনের নেটওয়ার্কের সকল কম্পিউটার গুলি সীমিত এলাকায় অবস্থিত।

এই এলাকাটি প্রায় এক কিলোমিটারের ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা উচিত, যেমন একটি বড় বিল্ডিং বা অনেক গুলি বিল্ডিং।

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা ডিভাইসের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। সাধারনত এই ডিভাইসগুলি একটি কমিউনিকেশন ক্যাবল দ্বারা সংযুক্ত থাকে।

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে, একটি প্রতিষ্ঠান তার কম্পিউটার, টার্মিনাল, কর্মক্ষেত্র এবং অন্যান্য বহিরাগত যন্ত্রগুলিকে একটি দক্ষ ও সাশ্রয়ী উপায়ে সংযুক্ত করতে পারে, যাতে তারা নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করতে পারে এবং প্রত্যেকেই সকল ডিভাইস এর সুবিধা পেতে পারে।

সবচেয়ে ছোট LAN শুধুমাত্র দুটি কম্পিউটার দিয়ে তৈরি করা যায়, আমরা এতে 1000 টির ও বেশি কম্পিউটার সংযুক্ত করা সম্ভব ।

এতে ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। যদি কোন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক ওয়্যারলেস হয় তাহলে তাকে বলা হয় ওয়্যারলেস ল্যান ।

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এর বৈশিষ্ট্যঃ

  1. এই ধরনের নেটওয়ার্ক সংক্ষিপ্ত পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
  2. এই নেটওয়ার্কে data transfer খুব দ্রুত ।
  3. অন্য নেটওয়ার্কে তুলনায় এই নেটওয়ার্ক অনেকটাই সুরক্ষিত।
  4. নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য কোনরকম ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এর প্রয়োজন হয় না ।

মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN) কি বা কাকে বলে?

যখন একাধিক লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক অর্থাৎ ল্যান একটি বা আকাধিক শহরের মধ্যে একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তখন এই ধরনের নেটওয়ার্ককে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয় ।

একে সংক্ষেপে MAN ও বলা হয় , যার গতি 10-100 Mbits/sec। এগুলি খুব ব্যয়বহুল নেটওয়ার্ক যা ফাইবার অপটিক কেবল দ্বারা সংযুক্ত।

এগুলি টেলিফোন লাইন বা কেবল অপারেটর এবং মাইক্রোওয়েব লিঙ্ক দ্বারা সরবরাহ করা হয়।

মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক এর বৈশিষ্ট্য

  1. এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন।
  2. এর data transfer speed 10 থেকে 100 Mbits/sec পরজন্দ হতে পারে।
  3. এই নেটওয়ার্ক এর পরিধি 70 কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN কি) কি বা কাকে বলে?

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত কম্পিউটার এবং ডিভাইসগুলি একে অপরের থেকে হাজার হাজার কিলোমিটারের ভৌগলিক দূরত্বে অবস্থিত হতে পারে।

এই নেটওয়ার্কের পরিধি বিভিন্ন মহাদেশে বিস্তৃত হতে পারে। এটি একটি বড় ডাটা নেটওয়ার্ক। এতে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের তুলনায় data transfer speed অনেক কম।

অধিক দূরত্বের কারণে, microwave stations বা Communication satellites ব্যবহার করা হয়।

Also Read: ইমান কাকে বলে

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক এর বৈশিষ্ট্য

  1. এটি একটি মাইক্রোওয়েভ নেটওয়ার্ক।
  2. এই ধরনের নেটওয়ার্কে ডেটা আদান প্রদানের জন্য মাইক্রোওয়েভ এবং স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়।
  3. এটি সবথেকে বড় ধরনের নেটওয়ার্ক।
  4. বিশ্বব্যাপী ডেটা কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে (শেয়ারবাজার, ব্যাংক, বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।

দুই ধরনের WAN হতে পারে, যেমন –

  • এন্টারপ্রাইজ WAN
  • Global WAN

নেটওয়ার্কিং এর সুবিধা কি?

নেটওয়ার্কিংয়ের নিম্নলিখিত সুবিধা রয়েছে:

  • রিসোর্স শেয়ারিং – নেটওয়ার্কের এর মাধ্যমে কম্পিউটারে কাজ করার সময় আমরা নেটওয়ার্কের যেকোন কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত ডিভাইসটি ব্যবহার করতে পারি।
  • উদাহরণস্বরূপ- যদি একটি কম্পিউটারের সাথে লেজার প্রিন্টার সংযুক্ত থাকে, তাহলে নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটার থেকে সেই প্রিন্টারে যেকোনো বিষয়বস্তু প্রিন্ট করা যাবে।
  • দ্রুত তথ্য প্রেরণ – কম্পিউটারের নেটওয়ার্কিং দ্রুত এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে দুটি কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান -প্রদানের অনুমতি দেয়। এটি কাজের গতি বাড়ায় এবং সময় বাঁচায়।
  • নির্ভরযোগ্যতা – নেটওয়ার্কিংয়ে, একটি ফাইলের দুই বা ততোধিক কপি বিভিন্ন কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যায়। যদি কোনো কম্পিউটার কোনো কারণে সমস্যা হয়, তাহলে সেই তথ্য অন্য কম্পিউটার থেকে পাওয়া যাবে।
  • এইভাবে নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলি একে অপরের জন্য ব্যাকআপের কাজও করতে পারে।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে নেটওয়ার্ক কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

নেটওয়ার্ক কাকে বলে,নেটওয়ার্ক কি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *