রসায়ন কাকে বলে,রসায়নের শাখা ও কি কি,রসায়ন কি সহজ,রসায়নের শাখা কয়টি,রসায়নের জনক কে,রসায়নের ইতিহাস

রসায়ন কাকে বলে? | রসায়নের শাখা ও কি কি?

রসায়ন কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো রসায়ন কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

রসায়ন কাকে বলে,রসায়নের শাখা ও কি কি,রসায়ন কি সহজ,রসায়নের শাখা কয়টি,রসায়নের জনক কে,রসায়নের ইতিহাস
রসায়ন কাকে বলে

রসায়ন কাকে বলে?

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলােচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।

রসায়ন হল পদার্থের বৈশিষ্ট্য এবং আচরণের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন। এটি একটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান যা উপাদানগুলিকে কভার করে যা পরমাণু, অণু এবং আয়নগুলির সমন্বয়ে গঠিত যৌগগুলির জন্য পদার্থ তৈরি করে।

রসায়ন হল বিজ্ঞানের একটি শাখা যা পদার্থের উপাদান এবং পদার্থের বৈশিষ্ট্য, গঠন এবং পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় কীভাবে গঠন পরিবর্তন করতে পারে এবং যখন পরিবর্তিত হয় তখন যে শক্তি নির্গত বা শোষিত হয় এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

Also Read: রসায়ন কাকে বলে

রসায়ন কি সহজ?

রসায়ন শেখার জন্য একটি কঠিন বিষয় হতে পারে , বিশেষ করে যদি আপনি এই জটিল বিজ্ঞানটি সঠিকভাবে অধ্যয়ন করতে না চান। যদি আপনি সময় দেন তাহলে ধীরে ধীরে অধ্যয়নের মাধ্যমে এটি সহজ বিষয় হতে পারে।

রসায়নের শাখা কয়টি?

রসায়নে প্রধানত ৫ শাখা বা বিভাগ রয়েছে:

  1. জৈব রসায়ন (Organic Chemistry)
  2. অজৈব রসায়ন (Inorganic Chemistry)
  3. ভৌত রসায়ন (Physical Chemistry)
  4. বিশ্লেষণী রসায়ন (Analytical Chemistry)
  5. প্রাণরসায়ন (Bio Chemistry)

রসায়নের জনক কে?

রসায়ন শাস্ত্রের জনক হচ্ছেন মুসলিম রসায়ন বিজ্ঞানী জাবির-ইবনে-হাইয়ান। এই মুসলিম রসায়ন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম রসায়নশাস্ত্র নিয়ে এতটা বেশি গবেষণা করেন যে কারনে রসায়ন শাস্ত্রের জনক হিসেবে তার নামটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।প্রায় 700 থেকে 800 খ্রিস্টাব্দ এর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি রসায়ন নিয়ে গবেষণার কাজ করেছিলেন।

রসায়নের ইতিহাস

রসায়নের ইতিহাস একটি অনেক পুরনো বিষয়। আজ থেক ৫০০০ বছর পূর্বে ভারতবর্ষে কাপড়কে আকর্ষণীয় করে তুলতে রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। ভারতীয় ঋষিরাও চাইতেন এমন কিছু তৈরি করার যার মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করা যায়। যাকে তারা বলতেন পরশ পাথর!

খ্রিষ্টপূর্ব 3500 অব্দের দিকে মানুষ পশু শিকার, ফসল ফলানো, জ্বালানি হিসেবে কাঠ সংগ্রহ সহ প্রোয়োজনীয় অনেক কাজে একধরনের অস্ত্র ব্যবহার করত৷কপার ও টিনকে গলিয়ে একত্র করে এ মিশ্রণকে ঠান্ডা করে কঠিন শংকর ধাতুতে পরিণত করা হয়৷ এ শংকর ধাতুটিই হল ব্রোঞ্জ৷ এ ব্রোঞ্জ দিয়ে খুব ভালো অস্ত্র তৈরি করা যেত।

এ ব্রোঞ্জ তখনকার মানবজাতির জন্য ছিল এক অতি প্রয়োজনীয় জিনিস ও আবিষ্কার।ব্রোঞ্জ আবিষ্কার মানব সভ্যতাকে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যায়৷

খ্রিষ্টপূর্ব 380 অব্দের দিকে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস বলেন যে, প্রত্যেক পদার্থকে ভাঙতে থাকলে শেষ পর্যায়ে এমন একটি ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যাবে যাকে আর ভাঙা যাবে না৷তিনি এ কণার নাম দেন এটম (Atom) যার অর্থ অবিভাজ্য ৷

প্রায় একই সময়ে আরিস্টটলসহ অন্যান্য দার্শনিকেরা মনে করতেন সকল পদার্থ মাটি, আগুন, পানি ও বাতাস মিলে তৈরি হয়৷ ফলে এটমের ধারণা অনেকদিন পর্যন্ত মানুষ গ্রহণ করেনি৷

মধ্যযুগে আরবের কতিপয় মুসলিম গবেষকরা কপার, টিন, সিসা এসব সল্পমূল্যের ধাতু থেকে সোনা তৈরি করতে চেয়েছিলেন৷ সেই সাথে তারা এমন একটি মহৌষধ তৈরি করার চেষ্টা করেন যা খেলে মানুষের আয়ু অনেক বেড়ে যাবে৷

তারা অবশ্য এগুলোতে সফল হননি তবে তারা অনেক চেষ্টা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন যা প্রশংসনীয়৷ যার ফলস্বরূপ সোনা বানাতে না পারলেও বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে সোনার মত দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন এবং এসব গবেষণার বিষয়গুলো লিখে রেখেছিলেন৷মূলত এসব গবেষণাকেই রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগত রসায়নের গবেষণা বলতে পারি।

রসায়ন চর্চায় প্রাচীন মিশরীয়দের অবদানও অনেক।কারন মিশরীয়রা যে মমি তৈরি করতো তাতে তারা নানান রকমের রাসায়নিক ব্যবহার করতো।

প্রাচীন গ্রীসেও রসায়নের চর্চা শুরু হয়েছে সুপ্রাচীনকাল থেকেই।গ্রিকরা জীবন সঞ্জিবনী তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন!আর এ বিদ্যা সম্পর্কপ অবগত ছিলেন জাবির-ইবন- হাইয়ান।তার পিতা ইবনে হাইয়ানও এ গুপ্তবিদ্যাচর্চাকারী ছিলেন। প্রাচীনকালে রসায়নকে গুপ্ত বিদ্যা বলা হতো কারণ রসায়নবিদরা তাদের পরীক্ষা-নীরিক্ষাগুলো গোপনে করতেন। এর কারণ ছিল সাধারণ মানুষ কৌতুুহলি হয়ে তার কাজে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে।

পরবর্তী সময়ে জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়ন শাস্ত্রের উপর ১০৮ খানা গ্রন্থ লেখেন। তাঁর মহামূল্যবান গ্রন্থগুলো রসায়ন গবেষণায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

রসায়নকে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

বিজ্ঞানের সব শাখার সাথে রসায়নের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মেডিকেল সাইন্সে জীবনের রহস্য বুঝতে, রোগ-ব্যাধির কারণ অনুসন্ধান, এর নিরাময় এবং পথ্য নিরূপণে রসায়ন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। পদার্থবিজ্ঞান মূলত কাজ করে বস্তু নিয়ে, যা পরমাণু ও অণু দ্বারা গঠিত।

সুতরাং পদার্থবিজ্ঞানে নিখুঁত জ্ঞান চর্চার জন্য রসায়নের সহায়তা দরকার। কম্পিউটার বিজ্ঞানের মূলে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটার চিপস এবং LCD যাতে প্রয়োজন হয় তরল স্ফটিক। এগুলোর প্রস্তুতি ও বিশোধনে রসায়ন মূখ্য ভূমিকা পালন করে। এ সব কারণেই রসায়নকে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান বলা হয়।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে রসায়ন কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *