গণতন্ত্র কাকে বলে

গণতন্ত্র কাকে বলে? বিস্তারিত….

গণতন্ত্র কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো গণতন্ত্র কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

গণতন্ত্র কাকে বলে
গণতন্ত্র কাকে বলে

গণতন্ত্র কাকে বলে?

গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না, বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।

গণতন্ত্র সম্পর্কে লর্ড ব্রাইস বলেন: ” যে শাসন প্রথায় জনসমষ্টির অন্তত তিন-চতুর্থাংশ নাগরিকের ভোটের শক্তি যেন তাদের শারীরিক বলের সমান হয়”।

(A government in which the will of the majority of the qualified citizen’s rules…..say, at lest three-fourths so that the physical force of the citizens coincides with their voting power)

গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন। অতীত ও মধ্যযুগে গণতন্ত্র মূলত এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু আধুনিক যুগে গণতন্ত্র বলতে আমরা কেবল এক ধরনের সরকারকেই বুঝিনা, সাথে সাথে এক ধরনের সমাজ ব্যবস্থাকেও বুঝি।

এ ধরনের সমাজব্যবস্থা যেখানে বিরাজমান নেই, সেখানে শাসনপ্রথা গণতন্ত্র নামে পরিচিত হলেও তা’ সম্পূণরূপে গণতান্ত্রিক নয়। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্র বলতে আমরা এক প্রকার শাসন ব্যবস্থাকে বুঝি।

Also Read: গুণক কাকে বলে

গণতন্ত্র কত প্রকার ও কি কি?

গণতন্ত্র সাধারণত দুই প্রকার:

  1. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
  2. পরোক্ষ গণতন্ত্র

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র

যে গণতন্ত্রে জনসমাজের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট স্থানে মিলিত হয়ে আইন প্রণয়ন এবং শ্বাসনকার্য পরিচালনার ব্যবস্থা করে তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy) বলা হয়। এত্যক্ষ গণতনই প্রকৃত বিশুদ্ধ গণতন্ত্র যা বাস্তবে দেখা যায় না। পরিবর্তে সুইজারল্যাণ্ডের মত গণ-ভোট, গণ-উদ্যোগ প্রভৃতি ব্যবস্থার মাধ্যমে আংশিকভাবে এই গণতন্ত্রের প্রকাশ মক্তব হয়।

পরোক্ষ গণতন্ত্র

পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকেই বোঝায়। পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই প্রচলিত রয়েছে।

গণতন্ত্রের ইতিবাচক দিক

  • জনগণ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
  • আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ।
  • যথাবিহিত আইনের দ্বারা জনগণের জান-মালের নিশ্চয়তা।
  • প্রশাসক এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ কার্যের জন্য জবাবদিহিতা করার বিধান।
  • মানুষের মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক হিসেবে কাজ করে গণতন্ত্র।
  • গণতন্ত্র, ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন, ন্যায়- সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারীতা রোধ করতে কার্যকরকরে।
  • সুবিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা।

গণতন্ত্রের নেতিবাচক দিক বা সীমাবদ্ধতা

  • প্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের অজ্ঞতার ফলে অযোগ্য-অক্ষম- অদক্ষ প্রতিনিধি নির্বাচিত হবার সুযোগ থাকে।
  • কার্যপরিচালনা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে স্থায়িত্বের অভাব এবং শাসন ব্যবস্থায় দায়িত্বহীনতার সুযোগ।
  • ব্য্যবহুল শাসনব্যবস্থা; জনমত গঠন,নির্বাচন, প্রচারকার্য প্রভৃতির পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়।
  • সংখ্যালঘুদের মত উপেক্ষিত হয়।
  • সকল জনগনকে একভাবে দেখা হলেও, কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিটি সদস্যের মাঝে সমান আগ্রহ না-ও থাকতে পারে; এই বিষয়টি অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
  • ক্ষমতাসীন দল ব্যতীত অন্যান্য পক্ষে সমর্থিত মানুষের অভাব, অভিযোগ, দাবী পূরণে কোন কাজ হয় না।
  • জনগণের প্রয়োজন এবং জনপ্রতিনিধির সিদ্ধান্তের মাঝে সমন্বয়হীনতার সুযোগ থাকে।
  • প্রতিনিধিত্বশীল পরোক্ষ গণতন্ত্রের কারণে জনগনের প্রত্যাশা পূরণ না হবার আশংকা থেকে যায়।
  • সুশাসন বিহীন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগনের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থ হাসিলের সুযোগ বেশি থাকে।
  • জনগণের ভোটাধিকারকে ব্যবহার করে নানা ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার সুযোগ থাকে।
  • ক্ষমতাসীন শক্তির পক্ষে নানা ধরনের পক্ষপাতমূলক সুবিধা পরিলক্ষিত হয়।

গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Democracy)

গণতন্ত্রের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোনো শাসনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক কিনা তা’এসব বৈশিষ্ট্যের মানদণ্ডে বিচার করে সহজেই আমরা অনুধাবন করতে পারি।

  • লক্ষ্য করতে হবে উক্ত শাসনব্যবস্থায় প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয় কিনা।
  • নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকারকে পরিবর্তন করা যায় কিনা।
  • উক্ত ব্যবস্থায় দল গঠন, মত প্রকাশ ও সমালোচনার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে কিনা।
  • জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের স্বার্থরক্ষার সুবন্দোবস্ত রয়েছে কিনা।
  • উক্ত ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারসমূহ আইনগতভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে কিনা।
  • এবং জনসাধারণ এ আশ্বাস পেয়েছে কি-না যে, সুষ্ঠু বিচার ছাড়া তাদের অহেতুক বন্দীদশা ভোগ করতে হবে না। অথবা অন্য কোনো শা্স্তি ভোগ করতে হবে না।

গণতন্ত্রের মূলস্তম্ভ

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। এই মূল ভিত্তিগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, ক্ষমতার সুষম বন্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনকার্যকে পরিচালনা করতে সার্বিক সহায়তা করে।

1.আইন বিভাগ

জনগনের জন্য সংবিধান মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইন প্রনয়ন করাই এই বিভাগের প্রধান কাজ। নাগরিকদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিগণ নির্দিষ্ট মেয়াদে আইন প্রণয়নের কাজের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত হন, আইন্সভায় স্থানপ্রাপ্ত হন।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ সংবিধানের মূল কাঠামোর উপর নির্ভর করেই আইন প্রণয়ন করে থাকেন।

2.বিচার বিভাগ

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে মূলত এই বিভাগ গঠিত হয়ে থাকে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত এবং কেন্দ্রীয় শীর্ষ আদালত নিয়ে গঠিত হয় বিচার বিভাগ।

এই বিভাগের প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রের আইন মোতাবেক বিভিন্ন বিষয়ের বিচার কার্য সম্পন্ন করা। আইনসভার প্রস্তাবনা বা সিদ্ধান্ত সংবিধান সম্মত কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহনের এখতিয়ার আছে এই বিভাগের।

3.শাসন বিভাগ

প্রচলিত আইন মোতাবেক রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থাকে নির্বিঘ্ন রাখাই এই বিভাগের প্রধান কর্তব্য। নাগরিকদের ভোটের সাহায্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ মূলত শাসন বিভাগের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের প্রধান হিসেবে কর্মরত থাকেন।

রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রচলিত আইন অনুসারে প্রশাসনিক কার্যক্ররম পরিচালনা করে এই বিভাগ। এই বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাগণ সরকারের দ্বারা নিযুক্ত হয়ে থাকেন।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে গণতন্ত্র কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *