ঘনীভবন কাকে বলে,ঘনীভবনের প্রক্রিয়া,ঘনীভবনের প্রক্রিয়া সমূহ

ঘনীভবন কাকে বলে | ঘনীভবনের প্রক্রিয়া | ঘনীভবনের প্রক্রিয়া সমূহ

ঘনীভবন কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো ঘনীভবন কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

ঘনীভবন কাকে বলে,ঘনীভবনের প্রক্রিয়া,ঘনীভবনের প্রক্রিয়া সমূহ
ঘনীভবন কাকে বলে

ঘনীভবন কাকে বলে?

কোনাে বাষ্পকে শীতল করে তা তরলে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে।

যেমন- জলীয় বাষ্প তাপশক্তি নির্গত করে ঠাণ্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়। এটি ঘনীভবন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।

or: যে প্রক্রিয়ায় বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প তরল মাধ্যমে পরিণত হয় তাকে ঘনীভবন বলে। সাধারণত সম্পৃক্ত বায়ুর ( saturated air) তাপমাত্রা শিশির বিন্দুতে এসে পৌঁছালে ঘনীভবন প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। অন্য দিকে এই বায়ুর উষ্ণতা 0 ডিগ্রি সেলসিয়াসের (freezing point) নিচে নেমে গেলে জলীয়বাষ্প সরাসরি বরফে পরিণত হয়, যা sublimation নামে পরিচিত।

ঘনীভবন সাধারণত দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে – বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও বায়ুর শীতলীকরণ এর হার। বায়ু স্থিত জলীয় বাষ্প যখন গ্যাসীয় মাধ্যম থেকে তরল মাধ্যমে পরিণত হয়, তখন এক প্রকার তাপ নির্গত হয়, যা লীনতাপ (latent heat) নামে পরিচিত। যা বায়ুর শীতলীকরণ এর হারকে হ্রাস করে।

Also Read: দৈর্ঘ্য কাকে বলে

ঘনীভবনের প্রক্রিয়া

সাধারণত বায়ু চারটি ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শীতল হয়ে ঘনীভবনের সূচনা করে। যথা –

  1. প্রসারণ এর মাধ্যমে শীতলীকরণ
  2. কোনো শীতল পৃষ্ঠে তাপের পরিবহনের মাধ্যমে শীতলীকরণ
  3. সরাসরি তাপের বিকিরণের মাধ্যমে শীতলীকরণ
  4. উষ্ণ ও শীতল বায়ুর মিশ্রণ জনিত শীতলীকরণ।

ঘনীভবনের এই চারটি প্রক্রিয়া কে আবার দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায় । নিম্নে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

1. অ্যাডিয়াবেটিক প্রক্রিয়া – যে প্রক্রিয়ায় ঊর্ধ্ব গামী বায়ু ভূপৃষ্ঠের উপরের অংশে চাপ হ্রাস জনিত কারনে প্রসারনের ফলে হালকা হয়ে তাপমাত্রার যে পরিবর্তন সাধন করে তাকে অ্যাডিয়াবেটিক প্রক্রিয়া বলে। মুক্ত বায়ুর ক্ষেত্রে প্রসারণ জনিত তাপ হ্রাস ঘণীভবনের এক অতি গুরুত্ব পূর্ন পন্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
অসম্পৃক্ত বায়ুর ক্ষেত্রে শুষ্ক অ্যাডিয়াবেটিক ল্যাপস রেট 10 ডিগ্রি সেলসিয়াস / 1000 মিটার এবং আর্দ্র অ্যাডিয়াবেটিক ল্যাপস রেট 6 ডিগ্রি সেলসিয়াস / 1000 মিটার।

2. নন- অ্যাডিয়াবেটিক প্রক্রিয়া – বিকিরণ, পরিবহন ও মিশ্রণের মাধ্যমে বায়ুর শীতলীকরণ কে নন- অ্যাডিয়াবেটিক প্রক্রিয়া বলে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে শীতলীকরণ এর ফলে কেবল মাত্র শিশির, কুয়াশার সৃষ্টি হয় কিন্তু তেমন একটা বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না।

ঘনীভবনের প্রক্রিয়া সমূহ

কুয়াশা

ভূপৃষ্ঠের উপরিস্থিত বায়ুস্তরে ঘনীভবন ঘটলে অসংখ্য অতিক্ষুদ্র জলকনা বায়ুতে ভাসমান অবস্থায় সৃষ্টি করে থাকে তাকে কুয়াশা বলে। কুয়াশা মানুষের দৃষ্টি শক্তিকে সীমাবদ্ধ করে। এর ফলে দূরের জিনিস দেখা যায়না।

শীতকালে দীর্ঘ রাত্রিতে ভূপৃষ্ঠ তাপবিকিরণ করিয়া শীতল হইলে ভূপৃষ্ঠের উপরস্থিত বায়ুস্তর শীতল হইয়া ঘনীভবন ঘটে। সেই জন্য শীতকালের সকালে কুয়াশা বেশি দেখা যায়।

সমুদ্র উপকূলে সমুদ্র হইতে উষ্ণ ও আদ্র শীতল স্থলভাগে প্রবেশ করিলে ঘন কুয়াশায়ার সৃষ্টি করে উষ্ণ ও শীতল বায়ুর সীমান্ত অঞ্চলে উপরের উষ্ণ বায়ু হইতে বৃষ্টিপাত হইতে থাকিলে নিচের শীতল বায়ু পরিপৃক্ত হইলে কুয়াশার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু কখনো কখনো উচ্চ স্থানে বা আকাশে ও অনুকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হইলে কুয়াশার সৃষ্টি হতে পারে।

শিশির

ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন আদ্র বায়ুস্তরের উত্তাপ শীতকালের দীর্ঘ রাতে হ্রাস পেতে পেতে শিশিরাঙ্কের নিচে নামলে বাষ্পকনাগুলি ঘনীভূত হইয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয় এবং উহারা ভূপৃষ্ঠের উপরে ঘাস পাতা ইত্যাদির উপরে অবস্থান করে। ইহাদের শিশির বলে। নির্মল আকাশ, মৃদু বাতাস এবং আদ্র বায়ু শিশির সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

SOME FAQ:

চরম আদ্রতা কাকে বলে ?

কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট আয়তন বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে তাকে এই তাপমাত্রার এই বায়ুর চরম আর্দ্রতা বলে।

ঘনীভবন কাকে বলে,ঘনীভবনের প্রক্রিয়া,ঘনীভবনের প্রক্রিয়া সমূহ

তো আজকে আমরা দেখলাম যে ঘনীভবন কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *