ঘর্ষণ বল কাকে বলে,ঘর্ষণ বল কত প্রকার ও কি কি,ঘর্ষণ বলের সুবিধা,ঘর্ষণ বলের অসুবিধা

ঘর্ষণ বল কাকে বলে? | ঘর্ষণ বল কত প্রকার ও কি কি?

ঘর্ষণ বল কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো ঘর্ষণ বল কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

ঘর্ষণ বল কাকে বলে,ঘর্ষণ বল কত প্রকার ও কি কি,ঘর্ষণ বলের সুবিধা,ঘর্ষণ বলের অসুবিধা

ঘর্ষণ বল কাকে বলে,ঘর্ষণ বল কত প্রকার ও কি কি,ঘর্ষণ বলের সুবিধা,ঘর্ষণ বলের অসুবিধা
ঘর্ষণ বল কাকে বলে

ঘর্ষণ বল কাকে বলে?

একটি বস্তু যখন অন্য একটি বস্তুর সংস্পর্শে থেকে একের ওপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে বা চলতে থাকে তখন বস্তুদ্বয়ের স্পর্শতলে গতির বিরুদ্ধে একটি বাধার উৎপত্তি হয়, এই বাধাদানকারী বলকে ঘর্ষণ বল বলা হয়।

OR: একটি বস্তু যখন আরেকটি বস্তুর উপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে অথবা চলতে থাকে তখন ঘর্ষণের কারণে যে বাঁধাদানকারী বলের সৃষ্টি হয় তাকে ঘর্ষণ বল বলে।

Also Read: ক্ষারক কাকে বলে

ঘর্ষণ বল কত প্রকার ও কি কি?

ঘর্ষণ বলকে চারভাগে ভাগ করা যায়।

  1. স্থিতি ঘর্ষণ
  2. গতি ঘর্ষণ
  3. আর্বত ঘর্ষণ
  4. প্রবাহী ঘর্ষণ

স্থিতি ঘর্ষণ (static Friction)

দুটি বস্তু একে অন্যের সাপেক্ষে স্থির থাকা অবস্থায় যে ঘর্ষণ বল থাকে, সেটা হচ্ছে স্থিতি ঘর্ষণ। স্থিতি, ঘর্ষণের জন্য আমরা হাঁটতে পারি, আমাদের পা কিংবা জুতাের তলা মাটিতে স্থিতি ঘর্ষণে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে যাই না।

গতি ঘর্ষণ (sliding Friction)

একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয়, তখন যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয়, সেটি হচ্ছে গতি ঘর্ষণ। সাইকেলের ব্রেক চেপে ধরলে সেটি সাইকেলের চাকাকে চেপে ধরে এবং ঘুরন্ত চাকাকে গতি ঘর্ষণের কারণে থামিয়ে দেয়। গতি ঘর্ষণ ওজনের উপর নির্ভর করে, ওজন যত বেশি হবে, গতি ঘর্ষণ তত বেশি হবে।

আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling Friction)

একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে, তখন সেটাকে বলে আবর্ত ঘর্ষণ। সবগুলাে ঘর্ষণ বলের মধ্যে এটা সবচেয়ে ছােট তাই আমরা সবসময়েই সকল রকম যানবাহনের মাঝে চাকা লাগিয়ে নেই। চাকা লাগানাে স্যুটকেস খুব সহজে টেনে নেওয়া যায় যদি এর চাকা না থাকত তাহলে মেঝের উপর টেলে নিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হতাে।

প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid Friction)

যখন কোনাে বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থের (Fluid) ভেতর দিয়ে যায়, তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে, সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ। প্যারাস্যুট নিয়ে যখন কেউ প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন বাতাসের প্রবাহী ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে পারে।

ঘর্ষণ বলের সুবিধা

  • ঘর্ষণ আছে বলে আমরা হাঁটতে পারি।
  • ঘর্ষণের জন্য আমরা কোন বস্তুকে হাতে ধরে রাখতে পারি।
  • রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারে।

ঘর্ষণ বলের অসুবিধা

  • যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশগুলির মধ্যে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে অংশগুলোকে ক্ষয় করে, ফলে যন্ত্রপাতি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
  • ঘর্ষণ গতির বিরুদ্ধে কাজ করে বলে ঘর্ষণকে অতিক্রম করে গতি সৃষ্টি করতে হলে কাজ করতে হয়। ফলে আমাদের কষ্ট হয়।

SOME FAQ:

ঘর্ষণ বল কোথায় উদ্ভব হয়?

পরস্পরের সংস্পর্শে থাকা দুটি তলের মধ্যে আপেক্ষিক গতি সৃষ্টি হলে বা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে গতি বা গতির উৎপাদনের চেষ্টার বিরুদ্ধে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে। তখন সংস্পর্শ তলের সমান্তরালে বস্তুর গতির বিপরীত দিকে ঘর্ষণ বল উদ্ভব হয়।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে ঘর্ষণ বল কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *