জিন কাকে বলে,জিন এর কাজ,জিন এর বৈশিষ্ট্য,জিনের গঠন,জিনের প্রকারভেদ,জিনতত্ত্বের জনক কে

জিন কাকে বলে? | জিন এর কাজ | জিন এর বৈশিষ্ট্য | জিনের গঠন | জিনের প্রকারভেদ

জিন কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো জিন কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

জিন কাকে বলে,জিনের গঠন,জিনের প্রকারভেদ,জিনতত্ত্বের জনক কে,জিন এর কাজ,জিন এর বৈশিষ্ট্য

জিন কাকে বলে,জিন এর কাজ,জিন এর বৈশিষ্ট্য,জিনের গঠন,জিনের প্রকারভেদ,জিনতত্ত্বের জনক কে
জিন কাকে বলে

জিন কাকে বলে?

জিন হলো ক্রোমোসোমের লোকাসে অবস্থিত DNA অনুর সুনির্দিষ্ট সিকুয়েন্স যা জীবের একটি নির্দিষ্ট ‘কার্যকর সংকেত’ আবদ্ধ করে এবং প্রোটিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়। অন্যভাবে বলা যায়, জিন ক্রোমোসোমস্থ DNA এর একটি অংশ, যা একটি কর্মক্ষম পলিপেপটাইড শিকল গঠনের উপযুক্ত বার্তা বহন করে।

OR: জিন হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত ডিএনএ। একটি জিন একটি পলিপপটিড চেইন নির্দিষ্ট করে কোনও ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে পারে যা একটি প্রোটিন বা প্রোটিনের অংশ (কাঠামোগত জিন) গঠন করে অর্থাৎ জিনগুলি ক্রোমোজোমে অবস্থিত ডিএনএর অংশ যা প্রোটিন উৎপাদনের জন্য নির্দেশাবলী ধারণ করে। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।

Also Read: আলোর প্রতিফলন কাকে বলে

জিন কাকে বলে,জিন এর কাজ,জিন এর বৈশিষ্ট্য,জিনের গঠন,জিনের প্রকারভেদ,জিনতত্ত্বের জনক কে

জিন এর কাজ (Function of gene)

জিনের কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো :

১. জিন জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে।

২. কোষ বিভাজনে জিন বা DNA তার নির্ভুল অনুলিপি তৈরি করে।

৩. জিন কোষে সকল ধরনের জৈবিক সংকেত প্রেরণ করে।

৪. জিন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোষের সকল কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. জিন প্রোটিন সংশ্লেষণসহ অন্যান্য কাজের জন্য RNA সংশ্লেষণ করে।

Also Read: ব্যাসার্ধ কাকে বলে

জিন আবিষ্কার করেন কে?

গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে জিন এর আবিষ্কারক বলা হয়। মটরশুটি নিয়ে গবেষণাকালে মেন্ডেল উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের বাহককে কণা বা ফ্যাক্টর বলে উল্লেখ করে। পরবর্তীকালে ১৯০৩ সালে মেন্ডেলের এই কণা বা ফ্যাক্টকেই জিন হিসেবে অভিহিত করেন জোহানসেন।

জিন এর বৈশিষ্ট্য (Characteristics of gene)

জিনের বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো :

১। জিন হচ্ছে বংশগতির উপাদান যা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট কাজের সাংকেতিক তথ্য বহন করে। এগুলো বিপাকীয় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে।

২। জিন DNA বা নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। আকৃতি ও সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে জিনের আত্মোৎপাদন ক্ষমতা আছে।

৩। জিন ক্রোমোসোমে সুনির্দিষ্টভাবে সজ্জিত থাকে।

৪। এটি ক্রোমোসোমের অভ্যন্তরে অবস্থান করে। একটি ক্রোমোজোমে অসংখ্য জিন থাকে। গড়ে প্রতিটি জিনে ১৫০০ নিউক্লিওটাইড বিদ্যমান।

৫। জিনের আয়তন ১/২০ মাইক্রো।

৬। ক্রোমোসোমে জিনের সংখ্যা তিন (ভাইরাস) থেকে কয়েক বা লক্ষ সহস্র (মানুষ) হতে পারে।

৭। ক্রোমোজোম-দেহে প্রত্যেক জিনের স্থান নির্দিষ্ট। ক্রোমোজোমের ঐ নির্দিষ্ট স্থানটিকে ঐ বিশেষ জিনের লোকাস (locus) বলা হয়।

৮। এরা মিউটেশন (mutation) অংশগ্রহণ করে যা অভিযোজন ও বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৯। জিনের উপাদানসমূহকে পুনঃবিনস্ত করার জন্য নতুন জিন গঠিত হয়।

১০। জীবের একেকটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, অর্থাৎ এক-একটি বৈশিষ্ট্য একাধিক জিনের সম্মিলিত ক্রিয়ার ফল। যেমন, ড্রোসোফিলা নামক মাছির চোখের রঙ প্রায় ২০ টি জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মানুষের চামড়ার রঙের ক্ষেত্রেও আছে বেশ কয়েক জোড়া জিন।

১১। কোন কোন ক্ষেত্রে একটি মাত্র জিন কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন, অ্যালবিনো (albino) মানুষদের দেহের চামড়া, চুলের রঙ ইত্যাদি একটি মাত্র জিনের মিউটেশনের ফলে সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে একটি মাত্র জিন দেহের বিভিন্ন অংশের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।

১২। কোন কোন ভাইরাসে (যেমন-উদ্ভিদ ভাইরাস) RNA দিয়ে জিন গঠিত।

জিনের গঠন (Structure of gene)

জিন প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। অংশ দুটি হলো—

  1. নিয়ন্ত্রক অংশ ও
  2. সংকেতবাহী অংশ

1। নিয়ন্ত্রক অংশ :

নিয়ন্ত্রক অংশ জিনকে কোষের প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রসর করে। নিয়ন্ত্রণ অংশ তিন ভাগে বিভক্ত– প্রমোটর, রিপ্রেসর ও এনহ্যান্সার। প্রমোটর RNA তৈরিতে কাজ করে। রিপ্রেসর অংশ জিনের অতিরিক্ত প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এনহ্যান্সার জিন থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ উৎপাদন আদায় করে নেয়।

2। সংকেতবাহী অংশ :

এ অংশটি ট্রান্সপ্রিকপশনাল ইউনিট নামে পরিচিত। এ অংশই প্রাথমিক RNA তৈরি করে।

জিনের প্রকারভেদ (Types of gene)

জিনকে বৈশিষ্ট্য অনুসারে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায় :

  1. প্রকট জিন— এ জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
  2. প্রচ্ছন্ন জিন— এ জিনের বৈশিষ্ট্য সুপ্ত থাকে।
  3. হোমোজাইগাস– দুটি প্রচ্ছন্ন অথবা দুটি প্রকট জিন একসাথে থাকে।
  4. হেটারোজাইগাস— একটি প্রচ্ছন্ন ও একটি প্রকট জিন থাকে।

গঠনগতভাবে একটি জিন এ কী কী অংশ থাকে?

জিন-এর গঠনে নিম্নলিখিত অংশ বিদ্যমান :

  1. কোডিং ও নন কোডিং সিগমেন্ট
  2. সাইলেন্সর
  3. এনহেন্সার
  4. প্রোমোটর
  5. টারমিনেটর

SOME FAQ:

জিনতত্ত্বের জনক কে?

মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয়।

জিনোম কাকে বলে?

কোষের মধ্যে থাকা ক্রোমোজোমের জিনগত বৈশিষ্ট্যের সমষ্টিকে জিনোম বলে।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে জিন কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *