পর্যায় সারণি কাকে বলে,আধুনিক পর্যায় সারণির বিবরণ,পর্যায় সারণির ইতিহাস,পর্যায় সারণির কার্যকারিতা

পর্যায় সারণি কাকে বলে? বিস্তারিত..

পর্যায় সারণি কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো পর্যায় সারণি কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

পর্যায় সারণি কাকে বলে,আধুনিক পর্যায় সারণির বিবরণ,পর্যায় সারণির ইতিহাস,পর্যায় সারণির কার্যকারিতা
পর্যায় সারণি কাকে বলে

পর্যায় সারণি কাকে বলে?

আধুনিক পর্যায় সূত্রের সাহায্যে মৌলসমূহকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সজ্জিত করলে যে সারণি তৈরি হয়, তাকে পর্যায় সারণি বলে।

OR: যে কোন মৌলের ভৌত এবং রাসায়নিক ধর্মের মধ্যে মিল, অমিল এবং ধর্মের পরিবর্তন ল কলেজের তালিকা তৈরি করা হয় তাকে পর্যায় সারণী বলা হয়।

পর্যায় সারণি হচ্ছে বিভিন্ন মৌলের মধ্যে ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের মিল বা অমিল এবং সে সকল ধর্মের মধ্যে পরিবর্তন দেখার জন্য যে সকল মৌলের সারণী সাজানো হয়।

পর্যায় সারণি তৈরিতে অনেক বিজ্ঞানীর অবদান আছে, তবে মেন্ডেলিফের অবদান খুব বেশি বলে তাকেই পর্যায় সারণির জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পর্যায় সারণিতে মৌলগুলােকে তাদের ধর্ম, বৈশিষ্ট্য ও ইলেকট্রন বিন্যাস অনুযায়ী সাজানাে হয়েছে।

পর্যায় সারণি কাকে বলে.আধুনিক পর্যায় সারণির বিবরণ.পর্যায় সারণির ইতিহাস.পর্যায় সারণির কার্যকারিতা

আধুনিক পর্যায় সারণির বিবরণ

আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলসমূহকে ৭টি অনুভূমিক সারি বা পর্যায়ে এবং ৮টি খাড়া স্তম্ভ বা গ্রুপে সাজানাে হয়েছে। পর্যায়সমূহকে ১ থেকে ৭ সংখ্যার সাহায্যে এবং গ্রুপ বা শ্রেণীসমূহকে I থেকে VII (রােমান সংখ্যা) ও ‘O’ (শূন্য) দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে। I থেকে VII পর্যন্ত শ্ৰেণীগুলােকে A ও B উপশ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।

পর্যায় : প্রতিটি পর্যায় (১ম পর্যায় ব্যতিত) বাম দিক থেকে একটি ক্ষার ধাতু দিয়ে শুরু করে ডান দিকের সর্বশেষ শ্ৰেণী অর্থাৎ ‘O’ শ্রেণীতে একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস দিয়ে শেষ হয়।

১ম পর্যায় : এটি একটি অতি সংক্ষিপ্ত পর্যায় যাতে মাত্র দুটি মৌল H (1) ও He (2) আছে।

২য় ও ৩য় পর্যায় : এ দু’টিকে সংক্ষিপ্ত পর্যায় বলা হয়। এদের প্রত্যেকটিতে ৮টি করে মৌল আছে। ২য় পর্যায়ে Li (3) থেকে Ne (10) এবং ৩য় পর্যায়ে Na (11) থেকে Ar (18) এই মৌলগুলি রয়েছে।

৪র্থ ও ৫ম পর্যায় : এ দু’টো পর্যায় দীর্ঘ পর্যায় নামে পরিচিতি। ৪র্থ পর্যায়ে K (19) থেকে Kr (36) পর্যন্ত 18টি এবং ৫ম পর্যায়ে Rb (37) থেকে Xe (54) পর্যন্ত এই 18টি মৌল রয়েছে।

৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায় : এ দু’টোকে অতিদীর্ঘ পর্যায় বলা হয়। ৬ষ্ঠ পর্যায়ে Cs (55) থেকে Rn (86) পর্যন্ত ৩২টি মৌল রয়েছে। ৭ম পর্যায়টি অসম্পূর্ণ; যদিও এতেও 32টি মৌল থাকতে পারে। তবে Fr (87) থেকে Rg (111) পর্যন্ত 21টি মৌল রয়েছে।

Also Read: পর্যায় সারণি কাকে বলে

পর্যায় সারণির ইতিহাস

পর্যায় সারণির প্রথম সংস্করণ হয় ১৮৬৯ সালে। আর এই সংস্করণ করেন রাশিয়ান রসায়নের অধ্যাপক দিমিত্রি মেন্ডেলিভ। আর তার প্রকাশিত 118 টি উপাদানের মধ্যে 63 উপাদান হচ্ছে প্রকৃতির পরিচিত উপাদান। আর এই সকল উপাদানের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য উপর ভিত্তি করে সংঘটিত হয়েছিল পর্যায় সারণি।

জার্মান রসায়নের অধ্যাপক জুলিয়াস লোথার মেয়ার তার নিজের মত করে একটি বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। তবে তার সংস্করণটি ছিল পরমাণুর ভৌত বৈশিষ্ট্য উপর ভিত্তি করে।

তবে তাদের পাণ্ডিত্যের উপাদানগুলিকে সারিবদ্ধ ভাবে সংগঠিত করেছিলেন এবং ফাঁকা স্থান গুলি ছেড়ে দেয়ার প্রত্যাশা করে অনুধাবন করেছিলেন।অন্যদিকে, ১৮৭১ সালে মেন্ডেলিফ পর্যায় সারণির আরও একটি সংস্করণ প্রকাশ করেন এবং সে উপাদানগুলির অক্সিডেশন অবস্থান অনুসারে। যা পর্যায় সারণির এক নম্বর থেকে 8 নম্বর কলামে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুসারে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

তবে, বর্তমানে ব্যবহৃত সংস্করণ গঠন করে ১৯২৩ সালের আমেরিকান রসায়নবিদ গ্রোভস গেমিং 18 টি চিহ্নিত কলাম সহ একটি পর্যায় সারণির প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে।

Also Read: সুষম খাদ্য কাকে বলে

পর্যায় সারণির কার্যকারিতা

নিম্ন পর্যায় সারণির কার্যকারিতা উল্লেখ করা হলো-

  • পর্যায় সারণির বিভিন্ন মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস এবং ধর্মের উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে রসায়ন শাস্ত্র অনেক সহজ এবং সুশৃংখল হয়েছে।
  • পর্যায় সারণির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি মৌলের পারমাণবিক ভর সংশোধন করা সম্ভব হয়েছে। যেমনঃ বেরিলিয়াম (Be).
  • পর্যায় সারণি ব্যবহার করে প্রাকৃতিক মৌলের সঠিক সংখ্যা 92 এবং বাকি মৌল গুলির কৃত্রিম মৌল সম্পর্কে জানা যায়।
  • যদি পর্যায় সারণিতে কোন মৌলের সঠিক অবস্থান জানা থাকে তাহলে ওই মৌলের বিভিন্ন ধর্ম জানা যায়। যেমনঃ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক, রাসায়নিক স্বক্রিয়তা, যোজ্যতা, অধাতব ধর্ম, তড়িৎ পরিবাহিতা, জারণ ও বিজারণ ক্ষমতা।
  • পর্যায় সারণির নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলির যোজ্যতা কক্ষে ইলেকট্রন ধারা সম্পূর্ণ ভর্তি থাকা এদের প্রত্যেককে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করার সহজ হয়েছে।
  • পর্যায় সারণির নতুন মৌলের অস্তিত্ব সম্বন্ধে ভবিষ্যৎবাণী করা যায় পরবর্তীকালে কয়েকটি নতুন মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে।
  • পর্যায় সারণিতে একটি শ্রেণীর অন্তর্গত শ্রেণীর মৌল গুলিকে পৃথকভাবে বসানো যায়। আর এর ফলে ধর্মের ভিত্তিতে অদৃশ্য মৌল গুলো একসাথে বসতে পারে না।

SOME FAQ:

পর্যায় সারণির জনক কে?

পর্যায় সারণির জনক হচ্ছে- বিজ্ঞানী মেন্ডেলিফ। বিজ্ঞানী মেন্ডেলিফ পর্যায় সূত্র আবিষ্কার করেন।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে পর্যায় সারণি কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *