প্রেম কাকে বলে,প্রেম কত প্রকার এবং কি কি

প্রেম কাকে বলে? | প্রেম কত প্রকার এবং কি কি?

প্রেম কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো প্রেম কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

প্রেম কাকে বলে,প্রেম কত প্রকার এবং কি কি
প্রেম কাকে বলে

প্রেম কাকে বলে?

পবিত্র দুটি মনের মিলন,মানসিক তৃপ্তিকে যেখানে কোন স্বার্থ থাকে না তাকেই প্রেম বলে। প্রেম হলো শক্তিশালী অনুভুতি ও অন্যের প্রতি গভীর টান।

প্রেম মানে দুটি স্বত্তার স্বাত্তিক চেতনা ক্ষেত্রের আন্দোলন…প্রেম একটি কবিতা, হৃদয়ের পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ কবিতা, সঙ্গাহীনতাই যার সঙ্গা।

জীবনের এক বসন্তে প্রত্যেক জীবকূলের মাঝেই নিজের অজান্তেই এক পবিত্র প্রেমের আবির্ভাব ঘটে। এক সম্পূর্ণ অজানা, অচেনা সঙ্গীকে নিজের মনিকোঠারে স্বযত্নে ভালোবাসতে বড্ডো বেশি ভাললাগে। ভালোলাগে কাউকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি তাকে ভালোবেসে কাছে পেতে। স্বর্বক্ষণ দৈনন্দিন কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও যেন মনটা গোপনে সেই সঙ্গীকে খোঁজায় ব্যস্ত থাকে। আপনারও কি মনে এমন আনুভুতি তৈরি হয় -তবে আসুন বিস্তারিত দেখে নেই , প্রেম কাকে বলে ?

Also Read: প্রসঙ্গ কাঠামো কাকে বলে

What is love?

প্রেম হলো এমন এক পবিত্র অনুভূতির নাম, যেখানে একজন আরেকজনকে কোনো দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, ভয় ও লজ্জা ছাড়া এবং একে অপরকে সম পরিমান আশা আকাঙ্খা নিয়ে মনের গোপন কথাগুলো প্রকাশ করে একে অপরের মনে জায়গা করে নেয় এবং একে অপরের প্রতি এক আত্মিক আকর্ষণ অনুভব করে । অর্থাৎ এক কোথায় প্রেম হলো অনুভব বা অনুভূতির এক বিশাল মায়াজাল মাত্র।

পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় ” যাহা আকর্ষণ, তাহাই মানব বিদ্যায় প্রেম আর পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় যাহা বিকর্ষণ, তাহাই মানব বিদ্যায় ঘৃণা“। অর্থাৎ এর আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় এমন –কারো প্রতি যতক্ষণ আকর্ষণ বা আত্মার টান আছে, ততক্ষন প্রেম, যখনি আকর্ষণ হাড়িয়ে বিকর্ষণ করতে শুরু করে, তার অর্থ ঘৃণা।

বর্তমান সময়ে এই সূত্রই অনেক বেশি কার্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় কাউকে ভালোবাসলে তার জন্য সারাজীবন আকর্ষণ অর্থাৎ প্রেম থাকতো। কিন্তু এখন মানুষের প্রেম মোবাইলের মধ্য দিয়ে টিকে থাকার কারনে একে অপরের প্রতি আত্মার আকর্ষণ অনেক কমে গেছে, তাই মোবাইল পরিবর্তনের মতোন করেই এখন প্রেম ভালোবাসা পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে এক জন্য থেকে আরেক জনের কাছে। নষ্ট হয়ে গেছে সেই পবিত্র অনুভূতি আর একে অপরের প্রতি বিশ্বাস করার ভরসাম্যগুলো। এখন মানুষ প্রেম করলেও কখনোই বিশ্বাস রাখতে পারে না যে, তার সঙ্গী সারাজীবন তার পাশেই থাকবে কি না ।

প্রধানত দুজন বিবাহিত বা অবিবাহিত নারী পুরুষের মধ্যে যে প্রেম বা ভালোবাসার জন্ম নেয়, সেই প্রেমকে পৃথিবীর প্রায় সকল সমাজ যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখে। এই প্রেম ভালোবাসাকে অমর প্রমান করতে গিয়ে রচিত হয়েছে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সাহিত্য পুরান ও রচনা কাব্য।

প্রেম কত প্রকার এবং কি কি?

প্রেম ভালোবাসাকে কোনো নির্দিষ্ট প্রকারে ভাগ করা যায় না, তবে সমাজে কয়েক ধরনের প্রেম বিভিন্ন ব্যাক্তি বিশেষে বিভিন্ন রকমের দেখতে পাওয়া, আমরা চেষ্টা করবো সেগুলোই তুলে ধরার..

মোহ বা লালসায়িত প্ৰেম :-এই ধরণের প্রেমে সামনের মানুষটির গুনের থেকে রূপ বেশি মনে দাগ কাটে।তার রূপসুন্দর্য্য সর্বক্ষনের জন্য পাগল করে রাখে। তার অবর্তমানেও যেন তার রূপ চোখের সামনে ভাসতে থাকে আর তার রূপের কারনে প্রেমে পাগল হওয়াকে মোহ প্রেম বা লালসায়িক প্রেম বলে।

ভালোলাগা প্রেম :-জীবনে এমন এনেক মানুষই আসে, যারা সর্বক্ষণ বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে থাকে। তার সঙ্গে সমস্ত রকম কথা বলা, গল্পগুজব করা, এক কথায় তার সঙ্গে বন্ধুস্বরূপ মিশতে ভালোলাগে কিন্তু তার সঙ্গে মনের কোন ইমোশন জড়াতে না। সেই মানুষটাকে শুধুই ভালোলাগে, ভালোলাগে তার স্বভাব- চরিত্র, কথাবার্তা ও আচরনসমূহ।

প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধ ভালোবাসা :-এই ধরণের প্রেম ভালোবাসায়, যখন প্রেম মাখমাখো তখন একে অপরকে ভবিষ্যতে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়, জীবন যেমন করেই চলুক না কেন, কেউ যাতে ছেড়ে না যায়। এই রকম প্রতিশ্রুতি প্রেম অনেকক্ষেত্রে দায়বদ্ধ প্রেমের শিকার হয়ে ওঠে। প্রথম অবস্থায় যে প্রেম ছিল সেটা পড়ে কারো অবহেলার কারনে ভালোবাসায় কমতি পড়ে যায়, কিন্তু প্রতিশ্রুতির কারনে একে অপরকে বিয়ে করতে বাদ্ধ থাকে।

প্রথম প্রেম :- জীবনের প্রথম প্রেমকে অবুঝ প্রেম বা বাল্য প্রেম বলে কারন এই প্রেম কোনো রকম শর্ত বা কোন বয়স না দেখেই হয়ে যায়। যদিও এই প্রেম বেশির ভাগ ক্ষণস্থায়ী এবং অসম্পূর্ণ এক ভালোবাসার অনুভূতি মাত্র।

সম্পূর্ণ প্রেম:-এই প্রেমে একে অপরের প্রতি অন্তরঙ্গ ও আবেগ জড়িয়ে থাকে। এই প্রেমে কোনো রকম শর্ত ছাড়াই সারাজীবন একই রকম ভাবে চলতে পারে, একে অপরের মনের ভাব খুব সহজেই বুঝতে পারে এবং খুব সুন্দর একটা বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে জীবন চালাতে থাকে।

ইন্টারনেট প্রেম / সোশ্যাল মিডিয়া প্রেম:-মানুষ একটা সময় নিজের প্রেম ভালোবাসাকে নিজের এলাকার মধ্যেই খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতো, কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবস্থা বা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার কারনে এখন মানুষের মনের মানুষকে আর নিজের এলাকায় নয় গোটা ইন্টারনেট জগতে খোঁজার চেষ্টা করে।দিনের পর দিন এই ইন্টারনেট প্রেম দ্রুত গতিতে বেড়েই চলেছে। 2020 সালে করোনা পরিস্থিতির পর থেকে এই ইন্টারনেট প্রেম 98% রেসিকেও ছাড়িয়ে যায়।

বিদেশির সঙ্গে প্রেম :-এই ধরণের প্রেম ভালোবাসায় প্রেমিক অথবা প্রেমিকার মধ্যে যেকোনো একজন বিদেশী হয়ে থাকে। এই রকম প্রেম বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার পরও হতে পারে আবার নিজের দেশে ঘুরতে আসা কোন বিদেশির সঙ্গেও হতে পারে। তবে এই রকম প্রেম এখন মোবাইলে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেও হয়ে থাকে।

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম :-এই ধরণের প্রেম আজকাল এনেক বেশি লক্ষ্য করা যায় এবং এই প্রেম অনেক বেশি স্থায়ী হয়। এখানে প্রথমে প্রেমিক, প্রেমিকা দীর্ঘদিন বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে একে অপরকে জানতে শুরু করে এবং একটা সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সূচনা ঘটে।

প্লেটোনিক প্রেম :-এই ধরনের প্রেমে প্রেমিক ও প্রেমিকার কোন রকম দৈহিক চাহিদা বা কাম বাসনা কাজ করে না অর্থাৎ এই প্রেম সম্পূর্ণ শরীর ব্যাতিত এক আত্মার প্রেম। এই প্রেমে শুধু নিঃস্বার্থভাবে দেওয়া কাজ করে, তার পরিবর্তে কিছু পাওয়ার আশা থাকে না।

এক রাতের প্রেম :-এই ধরণের প্রেমে হঠাৎ করে এক রাতের কাম বাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে প্রেমিক প্রেমিকা তৈরি হয়। যদিও এই প্রেম সম্পূর্ণ পাপ ও নিষিদ্ধ মনে করা হয়। এই ধরনের প্রেমে হঠাৎ করেই কাউকে ভালোলাগা আর কাম বাসনা পূরণের পর একে অপরের থেকে দূরে চলে যাওয়াই বিশেষত লক্ষ্য করা যায়।

বৈবাহিক প্রেম :-এই ধরণের প্রেম ভালোবাসাকে পৃথিবীর সমস্ত সমাজেই যথাযথ সম্মান আর মর্যাদার চোখে দেখে। এখানে প্রেমিক প্রেমিকা সামাজিকভাবে সবার সম্মতি অনুযায়ী বৈবাহিক সূত্রে বাধা পড়ে একে অপরের সারাজীবনের প্রেমের বন্ধন বজায় রাখে। এই প্রেম ভালোবাসাকে সম্পূর্ণ পবিত্র প্রেম মনে করা হয়।

পরকীয়া জনিত প্রেম :-এই ধরণের প্রেম সাধারণত বিবাহের পড়ে লক্ষ্য করা যায়। এখানে প্রেমিক প্রেমিকা অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেউ একজন তৃতীয় কোন ব্যক্তির প্রেমে পড়ে যায় এবং তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে গোপনে পরকীয়া চালাতে থাকে। এই অশুভ পরকীয়ার কারনে অবশেষে নিজের বৈবাহিক সম্পর্কে অশান্তির সৃষ্টি হয়।

অপরিণত বয়সের প্রেম :-এই ধরণের প্রেমে প্রেমিক ও প্রেমিকা দুজনের একজন অথবা দুজনেই অপরিণত বয়সের হয়ে থাকে। এই ধরণের প্রেম শুধু চোখের ভালোলাগা থেকে শুরু হয়। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রকম প্রেম পূর্ণতা পায় না, তবে অনেক ক্ষেত্রে সমাজের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

কর্মক্ষেত্রে প্রেম :-কর্মক্ষেত্রের প্রেমকে আজকাল মানুষ অনেক বেশি পছন্দ করে। একই কর্মক্ষেত্রে প্রেমিক- প্রেমিকা পাশাপাশি থেকে জীবন কাটাতে অনেক বেশি আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ উপভোগ করে।তাই অনেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীকে খুঁজতে তৎপর বেশি হয়।

অর্থের বিনিময়ে প্রেম :-এই ধরণের প্রেম হলো অনেটা অহংকারী মনোভাবের। এই প্রেমে একজন টাকা উড়ায় আরেকজন টাকা লুটে নেয়, আর যেদিন টাকা শেষ তাঁদের প্রেম ভালোবাসাও শেষ। যদিও এই রকম প্রেম বাস্তবিক ভাবে খুব অল্প কিছু লোকের কাছেই সীমাবদ্ধ।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে প্রেম কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *