ফিবোনাক্কি সংখ্যা কাকে বলে? | ফিবোনাক্কির বৈশিষ্ট্য,আবিস্কারক,প্রকৃতিতে সিরিজ,ব্যবহার

ফিবোনাক্কি সংখ্যা কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো ফিবোনাক্কি সংখ্যা কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

ফিবোনাক্কি সংখ্যা কাকে বলে
ফিবোনাক্কি সংখ্যা কাকে বলে

ফিবোনাক্কি সংখ্যা কাকে বলে?

পরপর দুইটি সংখ্যার যোগফল পরবর্তী সংখ্যার সমান হলে এ ধরনের সংখ্যাকে ফিবোনাক্কি সংখ্যা বলা হয়। যেমনঃ ০, ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, ৩৪… … …ইত্যাদি। একইভাবে বলা যায় এই রাশিমালার যেকোন সংখ্যা তার পরবর্তী দুইটি সংখ্যার বিয়োগ ফলের সমান।

ফিবোনাক্কি সংখ্যায় সংখ্যাটি তার আগের দুটি সংখ্যার যোগফলে নির্ধারণ হয়। যেমন- ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১…… এভাবে চলতে থাকবে।

ফিবোনাক্কি সিরিজ এর বৈশিষ্ট্য

  • যেকোন সংখ্যা তার আগের দুইটি রাশির যোগফলের সমান।
  • ২য় ও ৩য় সংখ্যার গুণফল বিয়োগ দিলে সবসময় বিয়োগফল ১ বা -১ হবে।
  • ফিবোনাক্কি সংখ্যাকে তার আগের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে গোল্ডেন রেশিও বা ১.৬১৮ পাওয়া যায়। ০, ১, ২ বাদে।
  • যেকোন সংখ্যা তার পরবর্তী দুইটি সংখ্যার বিয়োগ ফলের সমান।
  • এই সিরিজের যেকোন ৪টি পরপর সংখ্যা নিলে ১মও ৪র্থ সংখ্যার যোগফল থেকে ২য় ও ৩য় সংখ্যার যোগফল বিয়োগ দিলে সবসময় ওই চারটি সংখ্যার প্রথমটি পাওয়া যাবে।
  • এই শ্রেণীর যেকোন ৫টি সংখ্যা নেওয়া হলে ১মও ৪র্থ সংখ্যার গুনফল থেকে

Also Read: সমাজ কাকে বলে

ফিবোনাক্কি সংখ্যার প্যাটার্ন

ফিবোনাচ্চি রাশিমালার আবিষ্কারক ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিখ্যাত গণিতবিদ Leonardo Da Pisa (ডাকনাম Fibonacci) বলে গেছেন, “প্রকৃতির মূল রহস্য এ রাশিমালাতে আছে”। ফিবোনা হল আসলে একটা সিম্পল সিরিজ নাম্বার। এ সিরিজটি শুরু হয় ০ থেকে এবং সিরিজের পরবর্তী সংখ্যা গুলো প্রতিটি তার পূর্ববর্তী দুইটি সংখ্যার যোগফল।

ফিবোনাক্কি সিরিজের আবিস্কারক

ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিখ্যাত গণিতবিদ লিওনার্দো দ্য পিসা (Leonardo Da Pisa) এই রাশিমালার আবিস্কারক। তারমতে সৃষ্টির মূল রহস্য এই রাশিমালায় রয়েছে। তার জন্ম ইতালির পিসায়। তিনিই প্রথম ইউরোপীয়দের এই সংখ্যার সাথে পরচয় করিয়ে দেন।

যদিও ভারতীয় গণিত শাস্ত্রে আরও আগেই এই সংখ্যার উল্লেখ পাওয়া যায় তথাপিও লিওনার্দো দ্য পিসার ডাক নাম (ফিবোনাচ্চি) নামেই এই সিরিজ বহুল পরিচিত।

১২০৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খরগোসের প্রজননের প্রথম এই সিরিজের প্রভাব লক্ষ্য করেন। দুইটি খরগোস থেকে যদি প্রজনন হয় আর একটি খরগোসও না মরে, তাহলে ১০ মাস পর ৫৫টা খরগোস হয় আর ১১ মাস পর ৮৯টা এবং ১২ মাস পর হবে ১৪৪ টা।

Also Read: প্রেম কাকে বলে

প্রকৃতিতে ফিবোনাক্কি সিরিজ

আমাদের চারপাশের প্রকৃতিতে ফিবোনাক্কি সিরিজের অসংখ্য ব্যবহার রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলঃ

  • পাখিরা আকাশে ঝাক বেধে উড়ার সময় ফিবোনাক্কি সিরিজ ফলো করে উড়ে।
  • বিভিন্ন গাছে শাখা-প্রশাখার বিন্যাসে ফিবোনাক্কির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
  • গোলাপ সহ বেশিরভাগ ফুলের পাপড়ি সংখ্যা ফিবোনাক্কি সংখ্যক হয়ে থাকে।
  • মহাকাশের ছায়াপথেও ফিবোনাক্কির ছাপ দেখা যায়।
  • বিভিন্ন কিটের দেহ ভঙ্গিমায় এই সিরিজের প্রভাব দেখা যায়।
  • সূর্যমূখী ফুলের পাপড়ির বিন্যাশ ফিবোনাক্কি সিরিজ অনুযায়ী বিন্যাস হয়।
  • শামুকের প্যাঁচেও ফিবোনাক্কি সিরিজ দেখা যায়।
  • পাইন গাছের মোচায় ফিবোনাক্কি সিরিজ লক্ষ করা যায়।
  • মৌমাছির পরিবার তন্ত্রে ফিবোনাক্কির ব্যবহার রয়েছে।
  • ফুলকপির বিন্যাস এই সিরিজ অনুযায়ী হয়।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষনে ফিবোনাক্কি সংখ্যার ব্যবহার

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষনে ফিবোনাক্কি সংখ্যার ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। বিশেষ করে স্টক মার্কেটের তথ্য বিশ্লেষনে এই সিরিজ খুবই কাজের যা Fibonacci Retracement নামে সুপরিচিত। যারা ফরেক্স মার্কেটের সাথে সুপরিচিত তারা এই টুলের ব্যবহার করে ক্যান্ডেলের রিট্রেস্মেন্ট হিসাব করে থাকেন।

প্রকৃতির অনেক কিছুর মাঝেই ফিবোনাক্কি সিরিজ এর উপস্থিতি পাওয়া যায় আর তাই অনেকেই ধারনা করে থাকেন মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে এই সিরিজের উপস্থিতি থাকলেও অবাক হবার কিছু নেই যদিও তা এখনও অনাবিষ্কৃত।

মিউজিকে ফিবোনাক্কি সিরিজ

বড় বড় ব্যন্ডদলের কিছু মিউজিকে ফিবোনাক্কির ছন্দ ব্যবহার করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ফিবোনাক্কি সংখ্যা কাকে বলে?

পরপর দুইটি সংখ্যার যোগফল পরবর্তী সংখ্যার সমান হলে এ ধরনের সংখ্যাকে ফিবোনাক্কি সংখ্যা বলা হয়। যেমনঃ ০, ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, ৩৪… … … … … … … …ইত্যাদি।

ফিবোনাক্কি সংখ্যা কে কবে আবিস্কার করেন?

ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিখ্যাত গণিতবিদ লিওনার্দো দ্য পিসা (Leonardo Da Pisa) এই রাশিমালার আবিস্কারক। ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এটি আবিস্কার করেন।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে ফিবোনাক্কি সংখ্যা কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *