ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য কি

ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য কি?

ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য কি: আজকে আমরা জানবো ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য কি? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য কি

ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য কি?

ভরওজন
কোনো বস্তুতে মোট জড়তার পরিমাপকে ঐ বস্তুর ভর বলে।অন্যদিকে কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে তাই ঐ বস্তুর ওজন।
ভর হলো পদার্থের পরিমাণের একটি পরিমাপ।ওজন হলো কোনও বস্তুর উপর মহাকর্ষের টান পরিমাপ।
ভর একটি স্কেলার রাশি।অন্যদিকে ওজন যেহেতু এক প্রকার বল সেহেতু ওজন একটি ভেক্টর রাশি। এর দিক পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে।
যে অণু-পরমাণু দিয়ে বস্তুটি গঠিত তার সংখ্যা ও সংযুক্তির উপর ঐ বস্তুর ভর নির্ভর করে।অন্যদিকে কোনো বস্তুর ওজন যে স্থানে বস্তুটি আছে সেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মানের ওপর নির্ভর করে।
ভর কখনই শূন্য হতে পারে না।কোনো বস্তুর উপর মাধ্যাকর্ষণ কাজ না করলে ওজন শূন্য হতে পারে।
ভরের আন্তর্জাতিক একক কিলোগ্রাম।অন্যদিকে ওজনের আন্তর্জাতিক একক নিউটন।
এর মাত্রা সমীকরণ [M]এর মাত্রা সমীকরণ [MLT-২]
ভরকে ‘m’ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।ওজনকে ‘W’ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
ভর একটি মৌলিক রাশি।অন্যদিকে ওজন একটি লব্ধ রাশি।
বস্তুর ভর স্থানভেদে ভিন্ন হয় না।অন্যদিকে বস্তুর ওজন স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে৷
সাধারণ নিক্তি দিয়েই ভর মাপা যায়।অন্যদিকে স্প্রিং নিক্তি, তুলাযন্ত্র ইত্যাদি দিয়ে ওজন মাপা হয়।
কোনো বস্তুর ভর স্থানভেদে পরিবর্তিত হয় না। ইহা বস্তুর মৌলিক ধর্ম।বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। স্থানভেদে ‘g’ এর মান পরিবর্তিত হওয়ায় বস্তুর ওজন পরিবর্তিত হয়।

ভর কি?

ভর কি: কোনো বস্তুতে মোট জড়তার পরিমাপকে ঐ বস্তুর ভর বলে। ভর পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক তত্ত্বগত ধারণা। ভর হলো বস্তুর একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য যা বল প্রয়োগে বস্তুতে সৃষ্ট ত্বরণের বাধার পরিমাপক। নিউটনীয় বলবিদ্যায় ভর বস্তুর বল ও ত্বরণ এর সাথে সম্পর্কিত। ভরের প্রায়োগিক ধারণা হচ্ছে বস্তুর ওজন

ভরের পরিমাপ সম্ভব নয়। তবে অভিন্ন অবস্থায় বা পরিবেশে ওজন দ্বারা বিভিন্ন বস্তুর তুলনামূলক ভরের ধারণা পাওয়া যায়। বস্তুর ভরের কখনো পরিবর্তন হয় না। কিন্তু অবস্থানগত কারণে একই বস্তুর ওজন বিভিন্ন হতে পারে, কারণ ওজন মাধ্যাকর্ষণের ফল। সুতরাং বস্তুর ভর অপরিবর্তনীয় হলেও পৃথিবীর কেন্দ্রে, পৃথিবী পৃষ্ঠে এবং মহাকাশে এর ওজন বিভিন্ন হয়। এস্‌ আই পদ্ধতিতে ভরবেগের একক হলো কিলোগ্রাম-মিটার/সেকেন্ড (kg m/s), বা নিউটন-সেকেন্ড (N s)। বস্তুর ভর m এবং বেগ v হলে, ভরবেগের সাধারণ সমীকরণ: P = mv.

ওজন কি?

ওজন কি: কোন বস্তুর ওপর অভিকর্ষীয় ক্ষেত্র দ্বারা প্রযুক্ত বলের মানকে ভার বা ওজন বলে। কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বলে তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষল করে তা হলো বস্তুর ওজন। কোন বস্তুর ভর m এবং পৃথিবীর কোন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ g হলে ঐ স্থানে বস্তুর ওজন হবে, W= mg । ওজন ভরের আনুপাতিক হলেও ভর এবং ওজন মোটেও অভিন্ন নয়। ওজনকে সাধারণত W দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ওজনের একক হল বলের একক অর্থাৎ নিউটন (N)। বস্তুর ওজন স্প্রিং নিক্তির সাহায্যে পরিমাপ করা হয়ে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় ভিকর্ষজ ত্বরণের মানও তত কমতে থাকে ফলে বস্তুর ওজনও তত কমতে থাকে। এ কারণে পাহাড় বা পর্বতের শীর্ষে বস্তুর ওজন কম হয়। এটি প্রকৃতির ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল, এবং সে কারণেই এটি উচ্চ বা নিম্ন মাধ্যাকর্ষণ সহ বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য কি এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *