অ্যারোমেটিক যৌগ কাকে বলে

অ্যারোমেটিক যৌগ কাকে বলে? বিস্তারিত..

অ্যারোমেটিক যৌগ কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো অ্যারোমেটিক যৌগ কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

অ্যারোমেটিক যৌগ কাকে বলে
অ্যারোমেটিক যৌগ কাকে বলে

অ্যারোমেটিক যৌগ কাকে বলে?

যেসব যৌগের অণুতে এক বা একাধিক বেনজিন চক্র বিদ্যমান থাকে তাদেরকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলে। উদাহরণ : পিরিডিন (C5H5N),বেনজিন (C6H6), ফেনল (C6H5OH) ইত্যাদি। এসব যৌগ সমতলীয় চক্রিয় হয় এবং এতে একান্তর দ্বি-বন্ধনের উপস্থিতি থাকে।

অ্যারোমেটিক যৌগের বৈশিষ্ট্য

অ্যারোমেটিক যৌগের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো–

  • অ্যারোমেটিক যৌগসমূহ ৫, ৬ বা ৭ সদস্যের সমতলীয় চাক্রিয় যৌগ।
  • একান্তর দ্বিবন্ধন থাকে।
  • অ্যারোমেটিক যৌগ ইলেকট্রোফিলিক প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (যেমন : নাইট্রেশন, সালফোনেশন, হ্যালোজেনেশন, ফ্রিডেল ক্রাফট অ্যালকাইলেশন, অ্যাসাইলেশন) দেয়।
  • অ্যারোমেটিক যৌগে (4n + 2) সংখ্যক সঞ্চারণশীল π- ইলেকট্রন বিদ্যমান থাকে।
  • এদের গঠন সমতলীয় চক্রাকার এবং একান্তর দ্বিবন্ধন বিদ্যমান থাকে।
  • অরবিটালে (4n + 2) সংখ্যক সঞ্চরণশীল পাই (π) ইলেকট্রন থাকে।
  • যৌগটি পাই (π) আণবিক অরবিটাল গঠন করে এবং এই (π) আণবিক

Also Read: নাটক কাকে বলে

অ্যারোমেটিক যৌগের কয়টি অংশ থাকে?

অ্যারোমেটিক যৌগের দুটি অংশ থাকে। যথা–

  1. নিউক্লিয়াস
  2. পার্শ্ব শিকল

নিউক্লিয়াস

বেনজিনজাত অ্যারোমেটিক যৌগে উপস্থিত বেনজিন বলয়কে এর নিউক্লিয়াস বলে।

পার্শ্ব শিকল

বেনজিনের এক বা একাধিক H পরমাণু অ্যালকাইল গ্রুপ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে বিভিন্ন অ্যালকাইল বেনজিন উৎপন্ন হয়। বেনজিন বলয়ের সাথে যুক্ত এই অ্যালকাইল গ্রুপকে পার্শ্বশিকল বলে।

Also Read: গাণিতিক বাক্য কাকে বলে

সাইক্লোহেক্সেন কি অ্যারোমেটিক যৌগ- ব্যাখ্যা করো?

সাইক্লোহেক্সেন অ্যারোমেটিক যৌগ নয়। কেননা, সাইক্লোহেক্সেনের কাঠামো বলয়টি শুধু কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত এবং এদের মধ্যে কোনো দ্বিবন্ধন থাকে না অর্থাৎ সঞ্চারণশীল ইলেকট্রন নেই।

তাই এটি অ্যারোমেটিক যৌগ হতে পারে না। কেননা অ্যারোমেটিক যৌগ হতে হলে কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন ও (4n + 2) সংখ্যক ইলেকট্রন থাকতে হবে। তাই, সাইক্লোহেক্সেন অ্যারোমেটিক যৌগ নয়।

অ্যারোমেটিক যৌগ চেনার উপায়

যেসব যৌগ হাকেল নীতি মেনে চলে তারাই অ্যারোমেটিক যৌগ। হাকেল নীতি অনুসারে যেসব যৌগে (4n +2) সংখ্যক পাই (π) ইলেকট্রন অনুরণন অবস্থায় থাকবে, সেসব যৌগ সমূহকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলা যাবে। অর্থাৎ, হাকেল নীতি প্রয়োগ করে অ্যারোমেটিক যৌগ চেনা যাবে।

যেমন, ন্যাফথ্যালিন (C10H8) জৈব যৌগটি একটি অ্যারোমেটিক যৌগ। কারন, ন্যাফথ্যালিনে (4n +2) সংখ্যক পাই (π) ইলেকট্রন আছে। এখানে, n হচ্ছে কোনো একটি জৈব যৌগে বেনজিন বলয়ের সংখ্যা।

নিচের ছবিতে ন্যাফথ্যালিনের গাঠনিক সংকেত দেখানো হল। ন্যাফথ্যালিনে ৫ টি দ্বিবন্ধনে মোট ১০ টি পাই ইলেকট্রন ও ২ টি বেনজিন বলয় রয়েছে।

তাহলে, হাকেল নীতি অনুসারে n=2, (4×2 + 2) = 10, অর্থাৎ ১০ টি পাই ইলেকট্রন ন্যাফথ্যালিনে আছে। অতএব, ন্যাফথ্যালিন একটি অ্যারোমেটিক যৌগ, যা হাকেল নীতি অনুসারে প্রমানিত।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে অ্যারোমেটিক যৌগ কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *