ঘনত্ব কাকে বলে? | ঘনত্ব চিহ্ন, সূত্র, মাত্রা, একক, ঘনত্বতম পদার্থগুলি | What is Density?

ঘনত্ব কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো ঘনত্ব কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

ঘনত্ব কাকে বলে,ঘনত্ব চিহ্ন, সূত্র, মাত্রা, একক, ঘনত্বতম পদার্থগুলি,What is Density?

ঘনত্ব কাকে বলে,ঘনত্ব চিহ্ন, সূত্র, মাত্রা, একক, ঘনত্বতম পদার্থগুলি,What is Density?
ঘনত্ব কাকে বলে

ঘনত্ব কাকে বলে?

ঘনত্বঃ কোন বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে । ঘনত্ব পদার্থের একটি সাধারণ ধর্ম । ঘনত্ব বস্তুরউপাদানের ও তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল । ঘনত্বকে ρ দ্বারা প্রকাশ কর হয় m ভরের কোন বস্তুর আয়তন v হলে,ঘনত্ব ρ হবে,

ঘণত্বের একক:

ঘনত্বের মাত্রা:

সমান আয়তনের এক টুকরা কর্ক এবং এক টুকরা লোহা পানিতে ছেড়ে দিলে দেখা যাবে কর্কের টুকরা ভেসে আছে আর লোহার টুকরা ডুবে গেছে । সাধারণ ভাবে বলা যায় কর্কের চেয়ে লোহার ঘনত্ব বেশি তাই ডুবে গেছে।

আসলে আয়তন সমান হলেও যার ঘনত্ব বেশি সেটি ভারী আর যার ঘনত্ব কম সেটি হালকা জর্ডানে অবস্থিত মৃত সাগরে পানিতে লবণ এবং অপদ্রব্য বেশি থাকার কারণে পানির ঘনত্ব এত বেশি যে মানুষ পানিতে ভেসে থাকতে পারে।

ঘনত্বতম বস্তুর তালিকা

  1. অসমিয়াম – 22.6 x 10 3 কেজি/মি 3
  2. ইরিডিয়াম – 22.4 x 10 3 কেজি/মি 3
  3. প্ল্যাটিনাম – 21.5 x 10 3 কেজি/মি 3
  4. রেনিয়াম – 21.0 x 10 3 কেজি/মি 3
  5. টংস্টেন – 19.3 x 10 3 কেজি/মি 3
  6. ইউরেনিয়াম – 18.8 x 10 3 কেজি/মি 3
  7. ট্যানটালাম – 16.6 x 10 3 কেজি/মি 3
  8. Mercury- 13.6 x 10 3 কেজি/মি 3
  9. রোডিয়াম – 12.4 x 10 3 কেজি/মি 3
  10. থোরিয়াম – 11.7 x 10 3 কেজি/মি 3
  11. সীসা – 11.3 x 10 3 কেজি/মি 3
  12. রূপা – 10.5 x 10 3 কেজি/মি 3
  13. প্লুটোনিয়াম – 19.8 x 10 3 কেজি/মি 3
  14. সোনা – 19.3 x 10 3 কেজি/মি 3

ঘনত্বের চিহ্ন

  1. ঘনত্বকে সাধারণত (ρ) (গ্রীক অক্ষর ‘রো’-এর লোয়ার কেস) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
  2. যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে একে ল্যাটিন অক্ষর d দ্বারাও প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বস্তুর ভরকে (m) তার আয়তন (V) দ্বারা ভাগ করলে প্রাপ্ত ফলাফলকে ঘনত্ব (ρ) হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

তাপমাত্রার সাথে ঘনত্ব কি পরিবর্তিত হয়?

  1. তাপমাত্রা কমে গেলে ঘনত্ব বাড়ে।
  2. তাপমাত্রা বাড়লে ঘনত্ব কমে যায়।
  3. ঘনত্ব তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়।
  4. কারণ তাপমাত্রার সাথে আয়তনের পরিবর্তন হয়।
  5. আপনি কিছু গরম করার সাথে সাথে, আয়তন সাধারণত বৃদ্ধি পায় কারণ দ্রুত চলমান অণুগুলি আরও দূরে থাকে। আয়তন বাড়ানোর ফলে ঘনত্ব কমে যায়।

দৈনন্দিন জীবনে ঘনত্বের ব্যবহার

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘনত্বের ব্যবহার ব্যাপক। অনেক ক্ষেত্রে আমরা জেনে আবার অনেক ক্ষেত্রে না জেনেই ব্যবহারিক জীবনে বস্তুর ঘনত্বের বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগাই।

Also Read: সাইটোপ্লাজম কাকে বলে

আমাদের দেহের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে বেশি বলে আমরা মাটিতে হাটতে বসতে বা চলাফেরা করতে পারি। পানিতে ভাসার ক্ষেত্রে আমাদের দেহের অভ্যন্তরের বাতাস সহায়তা করে।

বাতাসের ঘনত্ব পানির ঘনত্ব থেকে কম। নৌকা, ভেলা, পানিতে ভাসমান দ্রব্য নির্মাণে পানি থেকে কম ঘনত্ব সম্পন্ন বস্তু ব্যবহৃত হয় বা এমন কৌশল ব্যবহৃত হয় যাতে ভাসমান বস্তুকে পানি থেকে হালকা করে দেয়।

বেলুন ওড়ানাের জন্য এর মধ্যে হিলিয়াম গ্যাস ভর্তি করা হয়। হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে কম তাই বেলুন বাতাসের মধ্যে উপরে উঠে যায়।

কার্বন মনাে অক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস, এর মধ্যে শ্বাস নেয়া যায় না। কিন্তু এরা অক্সিজেন, নাইট্রোজেন থেকে ভারি বলে বায়ুমন্ডলের একেবারে নিচে অবস্থান করে, ফলে আমরা বায়ুতে স্বচ্ছন্দে শ্বাস নিতে পারি।

পানি থেকে পানির বাষ্প বা গরম বাতাসের ঘনত্ব কম বলে খাবার রান্না করার সময় বা তপ্ত খাবার ঠান্ডা করার জন্য পাত্রের মুখ খােলা রাখা হয়। জলীয় বাষ্প কম ঘনত্বের কারণে আকাশে উঠে, যা মেঘের সৃষ্টি করে। বায়ুমন্ডলের বাতাস থেকে পানির ঘনত্ব বেশি বলে বৃষ্টির পানি পৃথিবী পৃষ্ঠে নেমে আসে।

তাপের প্রভাবে বায়ুমন্ডলের বাতাসের ঘনত্বের তারতম্য হয় বলেই পৃথিবীতে বায়ু প্রবাহ হয়। অধিক ঘন বস্তু অধিক শক্ত হয়। তাই নির্মাণ ক্ষেত্রে নির্মাণ সামগ্রী নির্বাচনে প্রয়ােজনীয় বলের হিসাব অনুয়ায়ী পদার্থ ব্যবহার করা হয়

ঘনত্ব সম্পর্কিত কিছু তথ্য

  1. সমুদের পানিতে লবণ দ্রবীভূত থাকায় এর ঘনত্ব নদীর পানির তুলনায় বেশি। তাই নদী অপেক্ষা সমুদ্রে সাতার কাটা সহজ।
  2. সমান আয়তনের লোহা ও তুলার মধ্যে লোহার ঘনত্ব বেশি বিধায় লোহার ওজন বেশি হয়ে থাকে।
  3. জর্ডানে অবস্থিত মৃত সাগরে (Dead Sea) অপদ্রব্যের পরিমাণ খুব বেশি হওয়ায় এর ঘনত্ব অতি উচ্চ। তাই মানুষ সেখানে ডুবে না।

আমরা জানি, পদার্থের তিনটি অবস্থা আছে। কঠিন, তরল ও বায়ুবীয় তরুল ও বায়ুবীয় পদার্থ সহজে প্রবাহিত হতে পারে বলে এদের প্রবাহী বলা হয়। তরল ও বায়ুবীয় পদার্থের কোনো আকার নেই। এরা দৃঢ় নয় বলে প্রয়োগ করলে আকৃতির পরিবর্তন ঘটে। এ জন্য তরল ও বায়ুবীয় পদার্থের আলোচনায় ভর এবং বলের চেয়ে ঘনত্ব এবং চাপ ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

কোনো বস্তু যে জায়গা জুড়ে থাকে তাকে এর আয়তন বলে। সমান আয়তনের এক টুকরো কর্ক আর এক টুকুরো লোহা পানিতে ছেড়ে দিলে দেখা যাবে কর্কের টুকরো ভেসে আছে আর লোহার টুকরো ডুবে গেছে। আমরা বলি কর্কের চেয়ে লোহার ঘনত্ব বেশি বলে লোহার টুকরো ডুবে গেছে। প্রকৃতপক্ষে সমান আয়তনের লোহার ভর অর্থাৎ, লোহার টুকরোয় পদার্থের পরিমাণ কর্কের টুকরোর পদার্থের পরিমাণের চেয়ে বেশি। ঘনত্ব বলতে আমরা কোনো বস্তুর একক আয়তনে পদার্থের পরিমাণকে বুঝি অর্থাৎ, একক আয়তনের ভরই হচ্ছে বস্তুর ঘনত্ব।

তো আজকে আমরা দেখলাম যে ঘনত্ব কাকে বলে এবং আরো অনেক বিস্তারিত বিষয় । যদি পোস্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশয়, আমাদের বাকি পোস্ট গুলো ভিসিট করতে ভুলবেন না!

ঘনত্ব কাকে বলে,ঘনত্ব চিহ্ন, সূত্র, মাত্রা, একক, What is Density?,ঘনত্বতম পদার্থগুলি,

Leave a Comment