সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে

সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে? | সমাজবিজ্ঞানের জনক কে?

সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে: আজকে আমরা জানবো সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনারা এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে?

সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে
সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে

আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে, তাদের সমষ্টিগতভাবে থাকাকে সমাজ বলে। আর এই সমাজ নিয়ে বিশেষ জ্ঞান বিজ্ঞান কে সমাজবিজ্ঞান বলা হয়।

সমাজ বিজ্ঞান হলো মানুষের সমাজ বা দলের বৈজ্ঞানিক আলোচনা শাস্ত্র। এখানে সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনের সামাজিক দিক এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রতিটি মানুষ একটি নির্দিষ্ট সমাজে বসবাস করে থাকে। প্রতিটি মানুষ সমাজের গন্ডিতে একবদ্ধ থেকে সকলের আচার,নিয়ন-নীতি ও পালন করে থাকে। সমাজের অধীনে থেকে, সমাজের সকল নিয়ম নীতি মেনে সমাজে আমরা বসবাস করি।

Also Read: পরিসংখ্যান কাকে বলে?

সমাজবিজ্ঞান একটি বাংলা শব্দ। এর ইংরেজি শব্দ হল Sociology। Sociology শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ “Socious “এবং “logos ” থেকে। ফলে Socious এবং logos এর সমন্বয় হল Sociology। তাই sociology শব্দটির আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় সমাজবিজ্ঞান। তাই অনেকের ভাষ্যমতে Sociology is the science of campainship.

ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান “‘Indian Council Of Social Science & Reserach এর মতে ,সমাজবিজ্ঞান মূলত কতগুলো সামাজিক উপাদান যেমন অর্থনীতি সমাজতত্ব ,শিল্পের সমাজতত্ব ,জ্ঞানের সমাজতত্ব ও শিল্পের সমাজতত্ব ইত্যাদির একটি সমন্বিত রূপ।

সেই আদিম সভ্যতা থেকে মানুষ একটি সমাজের অধীনে বসবাস করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে সময়ের কারণে মানুষ এখনও সেই সমাজের অধীনে বসবাস করে। সমাজে থেকে মানুষ নিজের চাহিদা পুরন সহ ,সকল ধর্মের রীতিনীতিতে অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি সমাজে আয়োজিত বিভিন্ন আচার আচরণ ,রীতিনীতি পালন করে।

সমাজবিজ্ঞানের জনক কে?

অগাস্ট কোঁৎ কে সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি একজন ফরাসী দার্শনিক ছিলেন। তাকে সমাজ বিজ্ঞানের পিতা বলা হয়। ১৮৩৮ সালে সর্বপ্রথম তিনি সমাজবিজ্ঞান শব্দটি ব্যবহার করেন। তবে ইবনে খালদুনকে সমাজবিজ্ঞানের আদি বা প্রাচীন জনক মনে করা হয়।

সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে সমাজ বিজ্ঞান কাকে বলে?

“সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক সম্পর্কের আলোচনা।”

Hob House বলেন

” The subject matter of sociology is the interaction of human mind.”

N.L. Word এর মতে সমাজ বিজ্ঞান কাকে বলে?

” সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজের বিজ্ঞান এবং অগ্রগতির সামাজিক প্রেক্ষাপট।”

সমাজ বিজ্ঞানের সংজ্ঞা

সমাজ বিজ্ঞান ধারণাটি বেশ পুরোনো। একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একটি সংগবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট গন্ডির অধীনে বসবাস করাকে বলা হয় সমাজ। সমাজে চলতে গেলে আমাদের সমাজের আচার আচরণ মেনে চলতে হবে। সমাজ বিজ্ঞান মূলত কিছু ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত।

সমাজ বিজ্ঞানের সংজ্ঞা নিয়ে একেক সমাজবিজ্ঞানী একেক অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কোন কোন সমাজবিজ্ঞানী সমাজবিজ্ঞানকে একেক ভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। চলুন তাহলে জেনে প্রখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানের আলোকে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃত সংজ্ঞাকে।

Also Read: পদ কাকে বলে?

বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী সামনের সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক প্রপঞ্চের বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন।

  1. সমাজবিজ্ঞানী বুরখিম এর মতে ,সমাজবিজ্ঞান হল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান।
  2. প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী কোভালেভস্কির মতে ,সমাজ বিজ্ঞান হল সামাজিক সংগঠন এবং সেই সাথে আমাদের সমাজ পরিবর্তনের বিজ্ঞান।
  3. বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী পার্ক এর মতে সমাজবিজ্ঞান হল মানবগোষ্ঠী কিংবা মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
  4. বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী জিমেল এর মতে সমাজবিজ্ঞান হল সমাজবিজ্ঞান হল একটি বিজ্ঞান যা মানব সম্পর্ক অধ্যয়ন করে।

অন্যদিকে বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক কর্মকান্ড সম্পর্কিত বিজ্ঞান বলে আখ্যা দিয়েছেন।

  1. এছাড়াও ম্যাকাইবারের মতে ,সমাজবিজ্ঞান এমনি এক ধরণের বিজ্ঞান যা সামাজিক ধর্মকর্ম ও রীতিনীতি নিয়ে আলোচনা করে থাকে।

সমাজ আমাদের উদার হতে শিক্ষার।মানুষের সাথে মানুষের সম্প্রীতির বন্ধন বাড়াতে শেখায়।তাই সমাজে সংগবদ্ধ মানুষের মনে আন্তরিকতা বেশি। একেক জনের সমস্যায় আরেকজন এগিয়ে যাবে এইটাই নিয়ম। তাই সমাজে সকল ভাবে সকলের সুবিধা যাচাই করে যেকোনো কর্ম সম্পদান করতে হবে। আপনার সুবিধা হবে কিন্তু অপর দিকে অন্য কারো ক্ষতি হবে তা সমাজ কখনো মেনে নেবে না। সেই ক্ষেত্রে সকলে মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

সমাজে কোনো সমস্যা সমাধান করেছে সমাজের মানুষের ধারা নির্ধারিত একজন ব্যক্তি। যার যেকোনো সিদ্ধান্ত সমাজের নিয়ম মানতে বাধ্য। কেউ যদি কোন কারণে কারণ ক্ষতি করে কিংবা কোন অপরাধ করে সমাজের সকলের মাইল তার উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করে থাকে

মূলত সকল সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করা বলা যায় যে, সমাজে রীতিনীতি, অনুশাসন মিলে গঠিত হয়ে থাকে আমাদের সমাজ।আর এই সমাজে বিরাজ মান রীতিনীতি, নিয়ম কানুন,অনুশাসন পালন এর ধারা নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে সমাজবিজ্ঞানের মধ্যে।তাই সমাজের অধিনে থাকতে হলে আপনাকে সকল বিষয় মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি নিজের চিন্তা, বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে হবে।নিজের কর্মের দ্বারা সমাজের উন্নতিতে অবদান রাখতে হবে। তবে সমাজ হবে সমৃদ্ধ।

Also Read: বিজ্ঞান কাকে বলে?

সমাজ নিয়ে পুরো ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে সমাজ বিজ্ঞান এ। বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীরা সমাজের পরিবর্তন এর ধারা,আচার,ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছেন সমাজবিজ্ঞানের।তাদের মূল্যবান মতামত,যুক্তিতর্ক, আলোচনা সমালোচনা এবং গবেষণার কারণে আমাদের সমাজ বিজ্ঞান আজ এত্তটা সমৃদ্ধ হয়েছে।তাই সমাজে চলতে গেলে আমাদের সামাজিক অনুশাসন মেনে চলতে হবে। আরও জানুন সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে

উপসংহার

প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণী ব্যক্তিরা নিজেদের কর্মের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। সমাজ বিজ্ঞানীরা তার ব্যতিক্রম নয়।তাদের কল্যানে আমাদের সমাজ আজ হয়েছে সমৃদ্ধ। তারা তাদের গবেষণার আলোকে আমাদের সমাজের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ তুলে ধরেছেন যার মাধ্যমে সময়ের সাথে সাথে আমাদের সমাজ হয়েছে আধুনিক।

আমাদের সমাজে এসেছে বেশ পরিবর্তন। আশা করি আজকের আলোচনার মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে সেই ধারণা আপনাদের ব্যাখ্যা করতে পেরেছি। আশা করি আপনাদের “সমাজবিজ্ঞান কাকে বলে” এই বিষয়ের উপর ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি। সমাজের প্রতি আমাদের বেশ দায়িত্ববোধ রয়েছে। তাই নিজেদের অবস্থান থেকে সমাজের প্রতি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করব।তবেই সমাজে বাড়বে শান্তি সেই সাথে বাড়তে সমৃদ্ধি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *